ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬


'ওয়াহেদ ম্যানশনের রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুনের সুত্রপাত'

২০১৯ মার্চ ১৪ ১৪:৫১:৪৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার রাসায়নিকের গুদাম থেকেই রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুড়িহাট্টা মোড়ে কোনো বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ছিল না। পুড়ে যাওয়া গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার অক্ষত ছিল। বিস্ফোরিত কোনো পিকআপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সিলিন্ডার বিস্ফোরণেরও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

পুরান ঢাকার চকবাজারে ২০ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ আগুনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

চুড়িহাট্টার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন আলাদা তদন্ত কমিটি করে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরও গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের কোনো আলামত পায়নি।

এদিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বলেছে, ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় বৈদ্যুতিক সুইচ অন করার সময় স্ফুলিঙ্গ থেকে বা অসাবধানতাবশত জ্বালানো আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিল, অথবা সুগন্ধির ক্যানগুলোতে কী ধরনের গ্যাসের অস্তিত্ব ছিল, তা বিশেষজ্ঞ দিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই জানা যাবে।

২৩ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা জেলা প্রশাসনসহ এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজন, এলাকাবাসী, চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মীর সাক্ষাৎকার, ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্র পর্যালোচনা এবং চুড়িহাট্টা এলাকা পরিদর্শন করে তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রতিবেদনে পাঁচটি স্বল্পমেয়াদি সুপারিশ ও ২৬টি দীর্ঘমেয়াদি সুপরিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামান বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুন লেগেছে। বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বা গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের যে কথা বলা হচ্ছিল, তা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ব্যক্তিকে চিঠি দেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি আমরা তদারক করব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি ক্যান, লাইটার রিফিল করার ক্যান, কাস্টার অয়েলের ছোট কাচের বোতল ও টিনের ক্যান, নেইলপলিশের বোতল, ছোট ও বড় বাল্বের গুদাম ছিল।

দোতলায় কয়েক বস্তা রাসায়নিক পদার্থ ছিল, যা প্রচণ্ড তাপে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া ভবনের নিচতলায় প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকের মজুত পাওয়া গেছে। কমিটি পুরো পর্যালোচনায় একমত হয়েছে যে আগুনের সূত্রপাত ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার রাসায়নিক গুদাম থেকেই হয়েছিল।

চুড়িহাট্টার রাজমহল হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনাস্থলের পাশের শেখ হায়দার বক্স লেনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেছে তদন্ত কমিটি। ফুটেজ অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে সুগন্ধি ক্যানভর্তি কার্টুনসহ ক্যান, আস্ত ইট ও ইটের টুকরো ওপরের দিক থেকে নিচের দিকে ছিটকে পড়ছিল। সঙ্গে ছিল ভয়াবহ আগুন।

কমিটির মতে, যদি ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনের রাস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতো, তাহলে এই ভবনের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম দিকের দেয়াল ভেঙে নিচের দিকে ছিটকে পড়ার কথা নয়।

বিজনেস আওয়ার/১৪ মার্চ, ২০১৯/এমএএস

উপরে