ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬


দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০১৯ মার্চ ১৬ ১১:২৬:০৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারলেন বিশিষ্ট এই সেতুটি উদ্বোধন করেন। এছাড়া ভুলতায় একটি চারলেন ফ্লাইওভার এবং ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে লতিফপুরে একটি রেলওয়ে ওভারপাসও উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওবায়দুল কাদেরের জন্য দোয়া করবেন, যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে এসে পুরো উদ্যোমে কাজ করতে পারেন। দ্বি

দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নিয়ে আমাদের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনেক আগ্রহ ছিল। কথা ছিল সেখানে গিয়ে আমি ব্রিজটি উদ্বোধন করবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওবায়দুল কাদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওবায়দুল কাদের ফিরে এলে তাকে নিয়ে ব্রিজ পরিদর্শনে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়ন আমরা অব্যাহত রাখবো। ঢাকা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে গাড়ি চলাচলের গতি বেড়ে যাচ্ছে। যারা রাস্তা পার হবেন তারা দেখে-শুনে নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা পার হবেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, শিশুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে গাড়ির ফাঁক-ফোকর দিয়ে রাস্তা পার হয়ে চলে যায়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের দুর্ঘটনা কাম্য নয়।

জানা গেছে, ৪০০ মিটার দৈর্ঘ এবং ১৮ মিটার প্রস্থ দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুটি যানচলাচলের জন্য খুলে দিলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট অনেকটা কমে আসবে। দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে এবং খুব শিগগির এ সেতু দুটিও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

কাঁচপুর সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা। আগের কাঁচপুর সেতুর সমান উচ্চতায় এই সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বাংলাদেশে এই প্রথম এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। আগের কাঁচপুর সেতু পুর্নর্বাসনের ফলে এর আয়ুষ্কাল নির্ধারিত ৫০ বছর মেয়াদের সঙ্গে আরো ৪০ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় কাঁচপুর নির্মাণের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট যেতে এখানকার দীর্ঘদিনের যানজট, দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলেন মানুষ। উদ্বোধন হওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চারলেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৫৩ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে ৫৪ দশমিক ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়শি কর্পোরেশন, শিমিজু কর্পোরেশন, জেএফই ইঞ্জিনিয়ার কর্পোরেশন এবং আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম কোম্পানি লি: ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর পাশাপাশি দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে।

আগামী জুনে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস আগেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

কাঁচপুর, মেঘনা ও মেঘনা গোমতি সেতুর পাশাপাশি তিনটি চার লেনের সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম এই সড়কে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুভোর্গের অবসান ঘটবে বলে আরএইচডি’র কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন।

বিজনেস আওয়ার/১৬ মার্চ, ২০১৯/এমএএস

উপরে