ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬


বিএনপি'র 'সাংগঠনিক দুর্বলতা' স্পষ্ট হচ্ছে

২০১৯ মার্চ ১৮ ১২:১০:৪১

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলে বিএনপিতে দেখা দেয় অস্থিরতা। কেন্দ্র এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও তৃণমূলের অনেক নেতাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অবতীর্ণ হন ভোটযুদ্ধে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয় তৃণমূলের অনেক নেতাকে। একের পর এক পদত্যাগ ও বহিষ্কারের ঘটনায় বিএনপি'র সাংগঠনিক দুর্বলতা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করেন বিশ্লেষক ও নেতাদের কেউ কেউ।

তারা বলছেন, হাইকমান্ডে শৃঙ্খলা না থাকার কারণেই এমনটি ঘটছে। এ অবস্থায় শিগগিরই দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের তাগিদ দিচ্ছেন তারা। তবে শীর্ষ নেতাদের অনেকেই পদত্যাগকারীদের সুবিধাবাদী আখ্যা দিয়ে দাবি করছেন, কোনো সংকট নেই দলে।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, উপজেলা নির্বাচনের আগে একটা আলোচনা হতে পারতো। দল চলার পথে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কিন্তু সেই ভুলের থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বিএনপি যদি সেই শিক্ষা নিতে পারে তাহলে বিএনপি স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের এই সদস্য মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নেতাদের ডেকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে এমনটি হতো না।

এদিকে, জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই বিএনপিতে ঘটছে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা। ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে তারা পদত্যাগ করলেও দলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত এ বিশ্লেষক বলছেন, শৃঙ্খলা দরকার বিএনপিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং অন্যান্যরা দায়িত্ব না নেয়ার ফলে একদিকে তো হতাশা আছে, একে অপরের ওপর অভিযোগ আছে। বহুদিন ধরে বলছিল তাদের একটা জরুরী কাউন্সিল মিটিং হওয়া উচিৎ। তাদের কাজকর্মের স্বচ্ছতা না থাকার কারণেই এইসব জিনিস ঘটছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরে আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী। বিএনপির এখানে কোনো ক্ষতি নেই। যারা সুবিধাবাদী হিসেবে চলে যাচ্ছে সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। তারা জনগণের কাছে ছোট হচ্ছে।

তবে দলের কিছু নেতা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করতে না পারলে দুর্দশা কাটবে না বিএনপি'র।

বিজনেস আওয়ার/১৮ মার্চ, ২০১৯/এমএএস

উপরে