ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬


শাহনাজ রহমতুল্লাহর কালজয়ী গানগুলো

২০১৯ মার্চ ২৪ ০৯:২৫:০০

বিনোদন ডেস্ক : কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ আর নেই। শনিবার (২৩ মার্চ) দিনগত রাত ১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। তবে রয়ে গেছে তার কণ্ঠের কালজয়ী গানগুলো।

দীর্ঘ ৫০ বছর গান গেয়েছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া গানই চারটি।

এগুলো হলো ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের কথা ও সুরে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথা ও আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনারগাঁয়’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’।

দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’ প্রভৃতি।

দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে প্লেব্যাকে অপরিহার্য ছিলেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। জয় বাংলা বাংলার জয়, যে ছিলো দৃষ্টির সীমানায় ও আমি তো আমার গল্প বলেছি তুমি কেন কাঁদলে- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ খ্যাতি পেতে শুরু করেছিলেন ষাটের দশকে শিশু বয়সেই।

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নায়ক ও বরেণ্য সুরকার আনোয়ার পারভেজের বোন আর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে শিশু বয়সেই গানের জগতে জায়গা করে নেন শিল্পী শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ, যার ডাক নাম শাহীন। যিনি গান শুরু করেছিলেন মায়ের অনুপ্রেরণায়।

১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পী দশ বছর বয়স থেকেই গান শুরু করেন। খেলাঘর থেকে শুরু করা এ শিল্পীর কণ্ঠ শুরু থেকেই ছিল বেশ পরিণত। গজল সম্রাট মেহদী হাসানের শিষ্য হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহ খুব অল্প বয়সে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কি করে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের মূহুর্তে শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহর কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিলো জয় বাংলা- বাংলার জয় গানটি।

এ গানটি সহ শাহ্‌নাজ রহমত উল্লাহর গাওয়া তিনটি গান ঠাঁই পেয়েছিলো বিবিসির শ্রোতাদের ভোটে মনোনীত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকাতেও।

দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে প্লেব্যাকে অপরিহার্য ছিলেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। ‘অধিকার’ ছবিতে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কথা ও আলী হোসেনের সুরে তিনি গেয়েছিলেন ‘কোন লজ্জায় ফুল সুন্দর হলো’। ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবির ‘সাগরের সৈকতে কে যেন ডাকে আয়’ গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার সম্মান ওঠে তার হাতে।

শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া কালজয়ী গানের তালিকায় রয়েছে ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’ (পিচ ঢালা পথ), ‘ওই ঝিনুক ফোঁটা সাগর বেলায়’, ‘পারি না ভুলে যেতে’ (সাক্ষী), ‘যেভাবে বাঁচি বেঁচে তো আছি’, ‘আমি সাত সাগরের ওপার হতে’ (কত যে মিনতি), ‘শুনেন শুনেন জাঁহাপনা’ (সাত ভাই চম্পা), ‘কে যেন সোনার কাঠি ছোঁয়ায় প্রাণে’, ‘আমি যে কেবল বলে তুমি’ (আগন্তুক), ‘একটু সময় দিলে না হয়’ (সূর্য উঠার আগে), ‘স্বপ্নের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই’, ‘আবার কখন কবে দেখা হবে’, ‘যদি চোখের দৃষ্টি দিয়ে চোখ বাঁধা যায়’, ‘তোমার আগুনে পোড়ানো এ দুটি চোখে’, ‘তুমি কি সেই তুমি’, ‘ও যার চোখ নাই’ (তাসের ঘর), ‘ঘুম ঘুম ঘুম চোখে’ (ঘুড্ডি), ‘আমি তো আমার গল্প বলেছি’, ‘বন্ধুরে তোর মন পাইলাম না’, ‘খোলা জানালায় চেয়ে দেখি তুমি আসছো’, ‘একটি কুসুম তুলে নিয়েছি’, ‘আমায় তুমি ডাক দিলে কে’, ‘ওই আকাশ ঘিরে সন্ধ্যা নামে’, ‘আমার ছোট্ট ভাইটি মায়ায় ভরা মুখটি’, ‘আষাঢ় শ্রাবণ এলে নেই তো সংশয়’, ‘বারোটি বছর পরে’, ‘আরও কিছু দাও না দুঃখ আমায়’, ‘আমি ওই মনে মন দিয়েছি যখন’, ‘আমার সাজানো বাগানের আঙিনায়’, ‘দিগন্ত জোড়া মাঠ’, ‘তোমার আলোর বৃন্তে’, ‘এই জীবনের মঞ্চে মোরা’ প্রভৃতি।

বিজনেস আওয়ার/২৪ মার্চ, ২০১৯/এ

উপরে