ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬


রাইট ছাড়তে চাওয়া জাহিনের শেয়ার দর এখন ৮.৮০ টাকা

২০১৯ এপ্রিল ১১ ১০:১৬:৪৮

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জাহিন স্পিনিং কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ১০ টাকা করে ২টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট শেয়ার ইস্যু করতে চায়। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫০টি রাইট শেয়ার ছেড়ে ৪৯ কোটি ২৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উত্তোলন করতে চায়। অথচ কোম্পানিটির শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে ৮.৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ১০ টাকার নিচের কোম্পানির রাইট শেয়ার ছাড়ার সুযোগ নাই। যে কোম্পানির শেয়ার ১০ টাকার নিচে পাওয়া যায়, সে কোম্পানির শেয়ার কেনো মানুষ রাইটে ১০ টাকায় কিনবে। ভাগ্য ভালো যে জাহিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর ২০ টাকায় নাই, অন্যথায় রাইট অনুমোদন নিয়ে নিত।

তিনি বলেন, যেকোন কোম্পানির রাইট অনুমোদনের আগে বিগত ৫ বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কি দিয়েছে, তা দেখা উচিত। কোন দূর্বল কোম্পানিকে রাইট ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না।

কোম্পানিটির রাইট শেয়ারে পরিচালকদের আগ্রহ না থাকলেও সাধারন বিনিয়োগকারীদের মাঝে ইস্যু করবে জাহিন স্পিনিং। এ কোম্পানির পরিচালকেরা নিজেদের শেয়ার কমিয়ে রাইট ইস্যু করতে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাইট ইস্যুর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আইপিওতে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহের পরে ৬৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূলধনের জাহিন স্পিনিংয়ে পরিচালকদের মালিকানা দাড়ায় ৪৪.৩৮ শতাংশ। তবে বর্তমানে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের মালিকানা নেমে এসেছে ২৩.৯৪ শতাংশে। যাতে কোম্পানিটির রাইট শেয়ার অনুমোদনের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। রাইট অনুমোদনে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন করা বাধ্যতামূলক।

২০১১ সালের ২২ নভেম্বর জারিকৃত বিএসইসির নোটিফিকেশন নং এসইসি/সিএমআরআরসিডি/২০০৯-১৯৩/১১৯/এডমিন/৩৪ এর ‘এ’ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেক তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা/পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে মোট পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। অন্যথায় কোম্পানি রাইট শেয়ার ও পুনঃগণপ্রস্তাবের (আরপিও) মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারবে না বলে ‘সি’ ধারায় বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কোম্পানির সচিব মহিন উদ্দিন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম বদরুজ্জামান খশরুর মৃত্যুতে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের শেয়ার ধারন ৩১.১০ শতাংশ থেকে কমে ২৩.৯৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বদরুজ্জামান খশরুর ধারনকৃত শেয়ার এরইমধ্যে তার সন্তান ও স্ত্রীর মধ্যে বন্ঠন করা হয়েছে। তাদের সবাই কোম্পানির পর্ষদে যুক্ত হলে, আবারও উদ্যোক্তা/পরিচালকদের শেয়ার ধারন ৩০ শতাংশের বেশি হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, রাইট শেয়ারের জন্য অনেক আগে ফাইল দাখিল করেছি। ওইসময় শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে ছিল না। এখন যেহেতু নিচে নেমে এসেছে, এক্ষেত্রে রাইট দেওয়ার বিষয়টি কমিশন ভেবে দেখবে, কি করা যায়।

২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরে একবারও শেয়ারহোল্ডারদেরকে নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি জাহিন স্পিনিং কর্তৃপক্ষ। তালিকাভুক্তির পরে ৩বারই বোনাস শেয়ার দিয়ে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়েছে। আর মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদেরকে বঞ্চিত করেছে। তারপরেও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমছে। কোম্পানির এমন আচরনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে। যার প্রভাবে পড়েছে শেয়ার দরে।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৫১ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ০.৮২ টাকা। এ হিসাবে ইপিএস কমেছে ০.৩১ টাকা বা ৩৮ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের ৭ মার্চ কোম্পানিটি ১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট ইস্যুর মাধ্যমে ৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা উত্তোলন করার অনুমতি পেয়েছিল। এ জন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ টাকা। তবে গত ২২ জুলাই কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন পূর্ব-নির্ধারিত তারিখ বাতিল করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটিকে সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনপূর্বক পুনরায় সংশোধিত রাইটস শেয়ার প্রস্তাবের আবেদন কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়।

বিজনেস আওয়ার/১১ এপ্রিল, ২০১৯/আরএ

উপরে