ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

eid-ul-fitor-businesshour24

প্যারোলে আগ্রহী নন খালেদা জিয়া!

২০১৯ এপ্রিল ১৬ ০৮:৫৮:৩৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : প্যারোলে নিজেকে মুক্ত করার কোনো ইচ্ছা নেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার। তিনি শর্ত দিয়ে মুক্ত হওয়ার চেয়ে বন্দি থাকাকে সম্মানের মনে করেন। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে তিনি মুক্ত হওয়ার পক্ষে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হচ্ছেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে চারদিকে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলা নববর্ষের দিন বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।

সেখানে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয় ছাড়াও রাজনৈতিক ইস্যুতে কিছু আলোচনা হয়। তবে ওই আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি তিন নেতার কেউই।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা নেত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা যে ওঠেনি, তা নয়। তবে প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি রয়েছে। তাই কোনো শর্ত দিয়ে তিনি মুক্তি নিতে রাজি হবেন, এটি তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক নেতা বলেন, শারীরিকভাবে চেয়ারপারসন খুবই দুর্বল হলেও মানসিকভাবে তিনি সেই নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মনোবল ধরে রাখছেন।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে প্যারোলের বিষয়টি এলে খালেদা জিয়া জানান, প্যারোল নিয়ে মুক্ত হওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। অন্যায়ের সঙ্গে তিনি আপস করবেন না।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া নিজেও নানাভাবে প্যারোলের কথা শুনতে পেরেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এমনকি দলের সিনিয়র দু-একজন নেতাও তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এই সুযোগ নেওয়ার পক্ষে—এমন কথাও তাঁকে বলা হয়েছে। কিন্তু নেত্রী এ ধরনের প্রস্তাবে রাজি নন।

এই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব গত রবিবার বিকেলে বিএসএমএমইউ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ আছেন। আগের চেয়ে খুব বেশি ইম্প্রুভ করেছেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি।

প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, না, এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। আমরা তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে আসছিলাম, তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মার্চের শেষ দিকে হঠাৎই খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। বলা হতে থাকে, ঈদের আগেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন।

এরই অংশ হিসেবে কারাগার থেকে তাঁকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। ৬ এপ্রিল জামালপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।

গত রবিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী দলে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার আগ্রহ দেখান।

কিন্তু তাঁরা ভাবলেন না আপসহীন নেত্রী আপস করেন কিভাবে? বরং বেগম জিয়া তাঁদের বলেছেন, যেসব মামলা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়া আরো জোরালো করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজনেস আওয়ার/১৬ এপ্রিল, ২০১৯/এ

উপরে