ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬


রাফি হত্যায় ব্যবহৃত বোরকা উদ্ধার

২০১৯ এপ্রিল ২০ ১৭:২৫:৫৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (ফেনী) : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সময় আসামি জোবায়ের যে বোরকা পরেছিল সেগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাফি হত্যা মামলার আসামি জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে বোরকাগুলো উদ্ধার করা হয়। শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রার অদূরে কাশমির বাজার সংলগ্ন ডাঙ্গি খাল থেকে বোরকাটি উদ্ধার করে পিবিআই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই’র পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আসামির পরিহিত বোরকাটি এ হত্যা মামলার অন্যতম আলামত। উদ্ধার হওয়ায় এটি মামলাটির বিচার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে।

এর আগে হত্যা মামলায় গ্রেফতার নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, বোরকা পরে পাঁচজন এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। তার একটি হচ্ছে এই বোরকা।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ১২টায় পিবিআই কর্মকর্তারা মনিকে নিয়ে প্রথমে উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানিক মিঞা প্লাজার একটি দোকানে যান, যেখান থেকে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় আসামিদের পরনে থাকা বোরকাগুলো কেনা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, মনিকে নিয়ে তদন্ত দল আরও কয়েকটি জায়গায় যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। এ নিয়ে এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে মনিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে আটক করা হয়। পরে গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফউদ্দিন আহমেদ মনিকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আসামি নুর উদ্দিন জানায়, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে নিয়ে আসে। ওই সময় ছাদে মনিও ছিল।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়।

সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের আটজন গ্রেফতারসহ মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চারজন। ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাফি এ হত্যা মামলায় আটক সর্বশেষ আসামি। এ মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকেও আটক করেছে পিবিআই।

বিজনেস আওয়ার/২০ এপ্রিল, ২০১৯/এ

উপরে