ঢাকা, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬


ব্যাংকের তাৎক্ষনিক ব্যবহারযোগ্য সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা রয়েছে

২০১৯ মে ২০ ১০:২৮:৫৪

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৮ ব্যাংকের কাছে নগদ ও নগদযোগ্য ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা রয়েছে। এরমধ্যে ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা প্রাইজ বন্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকে রয়েছে। বাকি প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিলে রয়েছে। যা গড় হিসাবে প্রত্যেকটি ব্যাংকের কাছে ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা রয়েছে। যেসব অর্থ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক ব্যবহার করতে পারবেন।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর চলতি বছরের ১ম প্রান্তিকের সমন্বিত আর্থিক হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংক রয়েছে। এরমধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের ১ম প্রান্তিকের বিস্তারিত আর্থিক হিসাব পাওয়া যায়নি। বাকি ২৮ ব্যাংকের কাছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা রয়েছে। তবে এরমধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে তাৎক্ষণিক ব্যবহার করার মতো ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা নগদ রয়েছে। যেসব অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ঋণ প্রদান, গ্রহিতার আমানত ফেরত ইত্যাদি কাজে যখন তখন ব্যবহার করা যাবে।

গত ১৬ মে শেয়ারবাজারের চলমান তারল্য সংকট কাটিয়ে তুলতে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে অতালিকাভুক্ত (ইক্যুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল প্রিফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল বন্ড, ডিবেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড) সিকিউরিটিজকে বাদ দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ করার সক্ষমতা বেড়েছে।

তালিকাভুক্ত ২৮টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিজস্ব তহবিলে। ব্যাংকটির কাছে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ৬ লাখ টাকা রয়েছে। এরপরের অবস্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রয়েছে। আর ৬১৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

নিম্নে চলতি বছরের ১ম প্রান্তিক শেষে ব্যাংকগুলোর তহবিলে থাকা নগদ অর্থের তথ্য তুলে ধরা হল-

ব্যাংকের নাম

নগদ ও নগদযোগ্য অর্থের পরিমাণ (টাকা)

নিজস্ব তহবিলে অর্থ (টাকা)

ডাচ-বাংলা ব্যাংক

৬৬৬৮.৫৫ কোটি

১৫৫৩.০৬ কোটি

ইসলামি ব্যাংক

১৫০০৮.৯৭ কোটি

১৪৫৭.৯৮ কোটি

ব্র্যাক ব্যাংক

৬৯২৬.৬৭ কোটি

৬১৬.১৩ কোটি

সিটি ব্যাংক

৪৪৬৪.৫১ কোটি

৫৯৪.৭৬ কোটি

পূবালি ব্যাংক

৪৬৫৬.০২ কোটি

৫০৫.৭৭ কোটি

ন্যাশনাল ব্যাংক

২৭৪৭.১৯ কোটি

৪০১.৪৫ কোটি

প্রাইম ব্যাংক

৩২৪০.৫০ কোটি

৩৮৩.৯১ কোটি

ট্রাস্ট ব্যাংক

২৩২০.৮৩ কোটি

৩৭৮.১১ কোটি

সাউথইস্ট ব্যাংক

৩৯৯৪.২৪ কোটি

৩৭৬.২৪ কোটি

রূপালি ব্যাংক

৬০৭৬.৭৫ কোটি

৩১৫.৯৮ কোটি

যমুনা ব্যাংক

২২৯০.৫০ কোটি

৩০৫.৪৮ কোটি

ইস্টার্ন ব্যাংক

৩৭৮৯.১৭ কোটি

৩০২.৩৮ কোটি

আইএফআইসি ব্যাংক

২১১৮.০১ কোটি

২৮৬.৫৩ কোটি

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

১৫৭৭.৩৮ কোটি

২৮৩.০৪ কোটি

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক

২৭৮৫.৫৭ কোটি

২৭৮.৬৭ কোটি

মার্কেন্টাইল ব্যাংক

১৯৭৫.৬৫ কোটি

২৭১.৫৪ কোটি

ব্যাংক এশিয়া

৪৭৪১.৬০ কোটি

২৬৫.২০ কোটি

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

৫০৭৩.৪৮ কোটি

২৬৪.৫৯ কোটি

প্রিমিয়ার ব্যাংক

৪১৬৪.৮৮ কোটি

২৩৫.৯১ কোটি

এনসিসি ব্যাংক

২২৪২.৩২ কোটি

২২৩.৬৭ কোটি

ওয়ান ব্যাংক

২৪০৬.৫৪ কোটি

২২২.৬৯ কোটি

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক

২০৫৮.২৭ কোটি

২১৬.৬৪ কোটি

এক্সিম ব্যাংক

২৫০১.১২ কোটি

২১২.৫৬ কোটি

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

৩৫৮১.২২ কোটি

১৮৯.৯৯ কোটি

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক

২২৫১.০৭ কোটি

১৮৬.৭৬ কোটি

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক

১৪৩.৩২ কোটি

২২.১৭ কোটি

মোট

১০১৭৫৫.৫৬ কোটি

১০৫৩৩.৬৬ কোটি

গড়

৩৬৩৪.১৩ কোটি

৩৭৬.২০ কোটি

নিজস্ব তহবিলে নগদ অর্থে সবচেয়ে পেছনে রয়েছে লোকসানি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে ২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১৮৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা রয়েছে। আর ১৮৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

বিজনেস আওয়ার/২০ মে, ২০১৯/আরএ

উপরে