ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬


কিলোগ্রামের সংজ্ঞা বদলে গেলো

২০১৯ মে ২১ ১০:১৯:৪৬

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : ভরের একক কিলোগ্রামকে এতদিন যে উপায়ে সংজ্ঞায়িত করা হত, তা বদলে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সোমবার (২০ মে) থেকে কিলোগ্রাম সংজ্ঞায়িত হবে প্ল্যাঙ্ক’স কনস্ট্যান্ট বা প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবকের সাহায্যে। যার মান ৬.৬২৬০৭০১৫ x ১০-৩৪ (মিটার)২ কিলোগ্রাম/সেকেন্ড।

এতদিন ফ্রান্সের প্যারিসে দুর্ভেদ্য কাচের গোলকে সংরক্ষিত প্লাটিনামের সংকর একটি ধাতবখণ্ডের ওজনকে ‘এক কেজি’ নির্ধারণ করে তার অনুপাতে বিশ্বব্যাপী মাপজোক চলত। গত ১৩০ বছর ধরে এটাই ছিল এক কিলোগ্রামের মাপ।

কিন্তু প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকর ধাতুতে তৈরি এক কিলোগ্রাম ভরটি ১৩০ বছরে ৫০ মাইক্রোগ্রামের মতো কমে গেছে। যার ফলে এই মান ব্যবহার কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এই অসুবিধা আটকাতেই পদার্থবিদ্যার কিছু ধ্রুবক সংখ্যার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে পরিমাপের সংজ্ঞায়। বিজ্ঞানীরা কিলোগ্রামের এমন সংজ্ঞা দিয়েছেন যাতে মাপটি চিরকালীন থাকবে। পার্থিব বস্তুকে মান হিসেবে না ধরে প্রাকৃতিক মান নেওয়া হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গাণিতিকভাবে ভরের একক নির্ণয়ের পদ্ধতি ঠিক হওয়ায় এখন যে কোনো স্থান থেকে, যে কোনো সময়ে কিলোগ্রামের ওজন পাওয়া যাবে।

শুক্রবার ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে ওজন ও মাপ নির্ণয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা কিলোগ্রামের নতুন এ সংজ্ঞার সমর্থনে রায় দেন। এর ফলে ‘ল্য গ্রঁদ কে’-র ওজন থেকে নয়, কিলোগ্রামকে সংজ্ঞায়িত করা হবে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের আলোকে। এতে সাধারণের দৈনন্দিন ওজন মাপামাপিতে পরিবর্তন আসবে না।

১৯৮৯ সাল থেকে প্যারিসে সংরক্ষিত ‘ল্য গ্রঁদ কে’-র প্রমাণ ভরের সমান বাটখারায় কিলোগ্রাম মাপার প্রচলন শুরু হয়েছিল। পৃথিবীর সর্বত্র একই ওজন ব্যবস্থা প্রচলনের জন্য ওই ধাতবখণ্ডের রেপ্লিকা বানিয়ে তা দেশে দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে প্রতি দশকে অন্তত একবার ওই ‘লা গ্রঁদ কে’ ও তার রেপ্লিকাগুলোর ভর মাপা হত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল ধাতবখণ্ডটি ওজন হারাচ্ছে বলে প্রমাণ পান বিজ্ঞানীরা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ওজন মাপার সময় সংরক্ষিত স্থান থেকে একে বের করে আনা ও ফের ঢোকানো এবং যে কাচের গোলকে এটি ছিল তার কোনো পারিপার্শ্বিকতা বদলের কারণেই মূল পরিমাপকটি ওজন হারাচ্ছে। এ কারণেই এমন একটি পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছিল যাতে এ ধরনের শঙ্কা থাকবে না।

অবশেষে ত্রাতা হয়ে এল নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ মাপার তত্ত্ব। সেখানেই একটি ধ্রুবক ‘এইচ’ এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা পরে পরিচিত পেয়েছিল ‘প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক’ হিসেবে।

এই এইচের একক হচ্ছে- কিলোগ্রাম বর্গমিটার পার সেকেন্ড। হিসাবটির ভেতরেই কিলোগ্রাম থাকায়, কেবল আয়তন আর সময়ের হিসাব পেলেই হয়ে যাবে সমাধান।

কিন্তু প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক ‘এইচ’ এর মান এতই ক্ষুদ্র যে তা বের করা এবং এর সঠিকতা ঠিক রাখা বেশ ঝক্কির। সেখানে সাহায্যকর্তা হিসেবে হাজির হলেন বিজ্ঞানী ড. ব্রায়ান কিবল। তার সুপার-অ্যাকুরেট সেট অব স্কেল ব্যবহারে ০.০০০০০১ শতাংশ ক্ষেত্রেও ‘এইচ’ পাওয়া যাবে নির্ভুলভাবে।

বিজনেস আওয়ার/২১ মে, ২০১৯/এ

উপরে