ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬


বড় পরিবর্তন আসছে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রমে

২০১৯ মে ২২ ১৪:১৬:১২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইতোমধ্যে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২১ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু হবে।

কী পড়ানো হবে, কেন পড়ানো হবে, কে পড়বে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন এবং পড়ার ফলে কী হবে, তার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকে শিক্ষাক্রমে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছিল।

প্রায় সাত বছর পর আবারও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আসবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা থাকলেও বিদ্যমান পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ধরেই এই স্তরের শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের প্রক্রিয়া গত বছরের শেষ দিকে শুরু হয়। আর মাধ্যমিক স্তরের (মাদ্রাসাসহ) কাজটি এ বছরের প্রথম দিকে শুরু হয়।

সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সহযোগিতা করছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে।

এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমও হবে দক্ষতাভিত্তিক। যেমন একজন শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কতটা বলতে পারল বা লিখতে পারল, সেটার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।

এমনিভাবে অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন কীভাবে সম্ভব, তা বলা হবে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে। এ ছাড়া যুগের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার জন্য ১৮টি জেলার ৩৬টি উপজেলার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়। পর্যালোচনার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

তাঁরা বর্তমান শিক্ষাক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। মাধ্যমিকের তথ্য সংগ্রহের কাজ এ মাসের প্রথম দিকে শেষ হয়েছে। এখন তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে। এর ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর পরিমার্জনের কাজটি হবে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজটি শেষ করা হবে। এরপর পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে পরের বছর (২০২১) প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণির বই দেওয়া হবে।

২০২২ সালে প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সপ্তম, নবম ও একাদশ শ্রেণির বই দেওয়া হবে নতুন শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে। এরপর ২০২৩ সালে পঞ্চম, অষ্টমসহ অন্য শ্রেণিগুলোর বই দেওয়া হবে নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে।

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা ছিল। এর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল।

পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৬০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ২০১৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথ সভা করে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল।

পরে এর ভিত্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে অষ্টম শ্রেণি শেষে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করলে মন্ত্রিসভা তা নাকচ করে দেয়। এরপর আর বিষয়টি এগোয়নি।

সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরেও আসেনি। বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি রেখেই শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করছে সরকার। যদি এই স্তর অষ্টম শ্রেণি করা হতো, শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনও সেভাবে ধারাবাহিকতা রেখে করা হতো।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, পঞ্চম শ্রেণি ধরেই শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরে যখন সিদ্ধান্ত হবে, তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস আওয়ার/২২ মে, ২০১৯/এ

উপরে