ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬


বিএসইসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মুগ্ধ ডিএসই

২০১৯ মে ২৭ ১৩:৩১:৫৮

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বে মুগ্ধ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এলক্ষ্যে ডিএসইর পক্ষ থেকে খায়রুল হোসেনের ৮ বছরের দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়েছে। ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (২৭ মে) ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে এই অভিনন্দন বার্তা দিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে শেয়ারবাজার বিপর্যয়ের পর দেশের শেয়ারবাজার পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০১১ সালের মে মাসে ড. এম খায়রুল হোসেনকে চেয়ারম্যান করে বর্তমান কমিশন গঠন করে৷ ড. এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে সুদীর্ঘ ৮ বছর শেয়ারবাজার উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সংস্কারে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছেন৷ এই সময়ে বাজার তথা বিনিয়োগকরীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আজ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে৷

বিগত ৮ বছরে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে আইনভিত্তিক ও প্রযুক্তি নির্ভর যে শেয়ারবাজার গড়ে উঠেছে, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তথা বিনিয়োগকারীসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ বিশ্বাস করে৷ এ অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের ৯২৪তম বোর্ড সভায় বিএসইসি’র চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন ও কমিশনারবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রদানের প্রস্তাব গৃহীত হয়৷

বর্তমান কমিশনের বহুবিধ সংস্কারমূলক কাজের অংশ হিসেবে শেয়ারবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নানামূখী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়৷ এর মধ্যে ছিল-শেয়ারবাজারে অনিয়ম চিহ্নিত করার মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজার পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকমানের সার্ভেইলেন্স সফটওয়্যার স্থাপন। যা বাজারের সচ্ছতার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার কর্তৃক বিশেষ স্কিম ঘোষণা; শেয়ারবাজারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করতে দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম প্রচলন; তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা/পরিচালকদের সম্বিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করা; শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুঁজিবাজারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা৷

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নে কমিশন সময়োপযোগী বিভিন্ন মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে এর বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন৷ এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ভিত্তি আগামীতে আরো শক্তিশালী হবে৷

বিএসইসি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দক্ষতা ও সততার জন্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশন কর্তৃক ‘এ’ ক্যাটাগরি সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে৷ যা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিএসইসি’র এই অর্জন বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের প্রতি দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

২০১০ পরবর্তী শেয়ারবাজারের পুর্নগঠন বা সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘দা এক্সচেঞ্জস ডিমিউচ্যুয়ালাইজশন এ্যাক্ট-২০১৩’ এর মাধ্যমে এক্সচেঞ্জগুলো ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত হয়। যা দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। পরবর্তী সময়ে ডিমিউচ্যুয়ালাইজশন স্কিম অনুযায়ী দীর্ঘ কর্মকান্ডের পর চীনা কনসোর্টিয়াম (সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ) ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়। এই চুক্তির ফলে ডিএসই এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে৷ এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড কৌশলগত ও কারীগরি সহায়তার ক্ষেএে আরো একধাপ এগিয়ে যায়৷

এসএমই বা স্বল্প মূলধনী কোম্পানির তালিকাভুক্তিকরণ ও লেনদেনের জন্য একটি পৃথক বোর্ড গঠন করা হয়েছে৷ সরকারি ট্রেজারি বন্ডের লেনেদেন চালু, ইটিএফ, ডেরিভেটিভসের মত এডভান্সড প্রোডাক্ট চালুর জন্য কাজ করছে৷ এছাড়া ওটিসি মার্কেটের আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে৷ এই সকল কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে৷

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালনে বিএসইসি’র আয়োজন ও উদযাপনে IOSCO সহ বিশ্ববাসী মুগ্ধ হয়েছে৷ বর্তমান কমিশন দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা এবং বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্স আয়োজন, শেয়ারবাজার ডিজিটালাইজেশন ও জিডিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজন ও উদযাপন, সেবিসহ বিভিন্ন দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন।

বিজনেস আওয়ার/২৭ মে, ২০১৯/আরএ

উপরে