ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬


ভেঙে পড়া ব্রিজ পুনর্নির্মাণ হচ্ছেনা, ভোগান্তিতে জনগণ

২০১৯ জুন ১১ ১৩:০৬:৩৮

বিজনেস আওয়ার (টাঙ্গাইল প্রতিনিধি): টাঙ্গাইলের সন্তোষেভেঙে পড়া লালপুলটি পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই সড়কে চলাচলকারী জনসাধারন।

গত ১১ মে শনিবার ভোরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি সড়কের সন্তোষ বাজারের পশ্চিম পাশে ”লালপুল” নামে খ্যাত বেইলী ব্রিজে বালুভর্তি একটি বড় ট্রাক উঠে গেলে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ার পর জন সাধারনের চলাচলের জন্য এলজিইডি এই ভাঙ্গা ব্রিজের নিচে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক নির্মিত একটি সুইসগেটকে বিকল্প ব্রিজ হিসেবে ব্যবহার করে একটি এ্যাপোচ সড়ক নির্মান করে দেয়।

এখন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের পোড়াবাড়ী, দাইন্যা, কাতুলী, হুগড়া ও মাহমুদ নগর ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক লোক এই বিকল্প ব্রিজ ব্যবহার করে যাতায়াত করছে। এই বিকল্প সড়ক ভারি যান চলাচল করার অনুপুযুক্ত এবং এ্যাপোচ সড়কটি এ্যবড়ো থেবরো হওয়ায় হালকা যান চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে।

এ ছাড়া মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও এম এম আলী কলেজ ও সন্তোষ জাহ্নবী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে ব্রিজটি পুনর্নির্মান না হওয়ার কারনে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হলো এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি-অটোচালক, মটর সাইকেল আরোহী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে।

এ প্রসঙ্গে এই সড়কে চলাচলকারী কাবিলা পাড়ার সিএনজি চালক মুছা মিঞা বলেন, এই সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টের। প্রায় ক্ষেত্রেই যাত্রীদের ব্রিজের রক্ষিত বেলতা অংশে নামিয়ে দেই। ফলে যাত্রীদের হেটে ব্রিজ পার হয়ে অপর প্রান্তে গিয়ে সিএনজিতে চড়তে হয়। এ কারনে যাত্রীদেরও সমস্যা হচ্ছে। আমাদের আয় কম হচ্ছে। অটো চালক মনি বলেন, এই ব্রিজে চলাচলের সময় খুব ভয়ে থাকি। একবার এই ব্রিজের ঢাল বেয়ে নামার সময় যাত্রী নিয়ে উল্টো পড়ে গিয়েছিলাম। এ ছাড়া এই সড়ক ও ব্রিজ ব্যবহারের ফলে অটোর ক্ষতি হচ্ছে।

সরকারী এম এম আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পানিয়াবান্দার গ্রামের মনিরুর ইসলাম জানান, আমাদের দু’টি কলেজ বাস এই ব্রিজ ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রী আনা নেওয়া করতো। বর্তমানে বাস দু’টি চলাচল করতে পারছে না। ফলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দ্রুত বিজ্রটি নির্মানের জোর দাবী জানান তিনি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহরিয়ার সৈকত জানান, ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী থাকে। বর্তমানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ও ৪ নাম্বার গেট ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। এতে অনেক ঘুর পথে তাদের আসতে হচ্ছে। ফলে অনেক সময় তারা ক্লাসে দেরিতে উপস্থিত হচ্ছে। কতৃপক্ষের কাছে যত দ্রুত সম্ভব ব্রিজটি নির্মানের দাবী জানাচ্ছি।

তোরাবগঞ্জ বাজারের পল্লী চিকিৎসক বসির আহমেদ ক্ষোভের সাথে বলেন, এই ব্রিজের কারনে রুগী পরিবহনে অন্য সড়ক ব্যবহার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এতে সময় অনেক বেশী লাগছে, তাদের পরিবারের খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, এই সড়কে নতুন করে এই ব্রিজ নির্মান করা হবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা হয়েছে। তাদের নির্মিত সুইচ গেটটি ব্রিজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার সাথে লেভেল করে নতুন করে সড়ক নির্মান করা হবে। আগের ব্রিজটি অনেক আগে নির্মান করা হয়েছিল। ফলে সেটা অনেক উচু ছিল। বতমার্নে সুইস গেটটি রাস্তার লেভেলে আছে। তাই শুধু মাত্র এ্যাপোচ সড়ক নির্মান করা হবে। এই প্রকল্পটি মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব দ্রুতই সড়কটি নির্মান কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজনেস আওয়ার/১১ জুন,২০১৯/ আরআই

উপরে