sristymultimedia.com

ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বাজেট শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক : সিএসই

১১:৪২এএম, ১৬ জুন ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন হলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: গোলাম ফারুক।

রবিবার (১৬ জুন) ঢাকাস্থ সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিএসইর সচিব রাজিব শাহা এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক হাসনাইন বারী।

সিএসই ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: গোলাম ফারুক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রুগ্ন কোম্পানিকে ভালো কোম্পানি কর্তৃক একত্রীকরণ/অধিভূক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এটি শেয়ারবাজারেরর জন্য একটি ভালো প্রস্তাব।

তিনি আরো বলেন, ঘোষিত বাজেটে নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বোনাস লভ্যাংশের উপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে রিটেইনড আর্নিংস বা রিজার্ভ যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তবে বাড়তি রিজার্ভের উপর ১৫ শতাংশ হারে করের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা কোম্পানিগুলোকে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত করবে বলে এবংয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য লভ্যাংশ আয়ের দ্বৈত কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গোলাম ফারুক বলেন, শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন এবং গুণগত সম্প্রসারণের জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে সরকারের কাছে ৮টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা প্রস্তাবটি আংশিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সিএসইর বাকি প্রস্তাবনার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার জন্য সিএসইর পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে : তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের বিদ্যমান কর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ কা হলে ভালো কোম্পানিসমূহ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে, যা শেয়ারবাজারকে সমৃদ্ধ করবে এবং স্বচ্ছ কর্পোরেট রিপোটিং এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে; নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা হলে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহ তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। এতে শেয়ারবাজারে গুণগত মানসম্পন্ন শেয়ারের যোগান বাড়বে যা বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আনয়নে ভূমিকা পালন করবে; প্রস্তাবিত বাজেটে এসএমই কোম্পানিসমূহের করমুক্ত আয় সীমার জন্য বার্ষিক লেনদেন ৩৬ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বাড়ানো হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের নতুন প্রবর্তিত এসএমই বোর্ড বাস্তবায়ন, একটি মানসম্মত কর্পোরেট কাঠামো এবং রিপোর্টিং এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ কর বাড়গানোর জন্য এসএমই কোম্পানিসমূহকে ৩ বছর শূন্য হার কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব পুন:ব্যস্ত করছি; ঘোষিত বাজেটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব কবরা হয়েছে, যা আমাদের প্রস্তাবিত সীমা ১ লক্ষ টাকায় উন্নীত করার জন্য অনুরোধ করছি; দেশের অর্থনীতির আকার এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরির লক্ষ্যে সকল প্রকার বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়কে করমুক্ত রাখা এবং জিরো কূপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়য়ের করমুক্ত সুবিধা ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল করদাতাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পুন:বিবেচনার আহবান করছি; ২০১৩ সালের অর্থ আইন অনুযায়ী ৫৩ বিবিবি ধারা থেকে বন্ড ডিলিট করা হয়। কিন্তু অন্যান্য আইনে সিকিউরিটিজ এর সংজ্ঞায় বন্ড অন্তর্ভুক্ত থাকা”য় বন্ড লেনদেনের উপর ০.০৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন কা হয়। একটি শক্তিশালী এবং পৃথকত বন্ড মার্কেট গঠনের লক্ষ্যে স্পষ্টভাবে উক্ত ধারা থেকে বন্ড লেনদেনেকে অব্যহতি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছি; এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের মদ্যে সম্পাদিত ঋণ চুক্তির শর্ত হিসেবে প্রণীত ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সরকারও আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে; বর্তমানে সিএসই ক্রমহ্রাসমান হারে আয়কর প্রদান করে, যা এই অর্থবনছরে শেষ হবে। এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ এর বিধান অনুযায়ী মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের শতকরা পঁচিশ ভাগ কৌশলগত বিনিয়োগকারীরর নিকট বিক্রয় করতে হবে। সিএসই এখনো আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারীয় নির্ধারণ করতে পারেনি। কৌশলগত বিনিয়োগকারীর নিকট শেয়ার বিক্রিয়ের জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) পাঁচ বছরে জন্য কর অব্যহতির সুবিধা দেয়া হলে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারী পেতে সহায়ক হবে এবং একই সাথে তুলনামূলক ছোট এক্সচেঞ্জ হিসেবে দেশের শেয়ারবাজারে যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে এবং স্টক ব্রোকারদের উৎসে কর কর্তনের হার পুন: নির্ধারণের জন্য বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও এই হার পূর্ববর্তী ০.০৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। অধিকাংশ ব্রোকিং হাউজ বর্তমানে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও এসকল ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে ক্রম বর্ধমান হারে কর আদায় আয় করের মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্টক ব্রোকারদের উৎসে কর কর্তনের হার ২০০৬ সালে চালুকৃত হারে অর্থাৎ ০.০১৫ শতাংশে পুন: নির্ধারণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, এবারের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় নির্দিষ্ট করা প্রদানের সাপেক্ষে বৈধ করণের বিধান রাখা হয়েছে যা ফ্ল্যাট, জমি কেনা এবং ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য কোন বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়নি। পাচার রোধ করা ও বিনিয়োগের স্বার্থে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে নির্দিষ্ট পরিমান কর দেয়া সাপেক্ষে শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগেহর সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বিজনেস আওয়ার/১৬ জুন, ২০১৯/আরএ/পিএস

উপরে