ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬


রিজার্ভে প্রস্তাবিত ট্যাক্স পুনঃবিবেচনার সুযোগ আছে- বিএসইসি চেয়ারম্যান

২০১৯ জুন ১৭ ১৩:৪৩:৩১

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গৃহিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) সংশোধনীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা দিয়েছেন স্টেকহোল্ডাররা। এরমধ্যে শুধুমাত্র প্লেসমেন্ট শেয়ারে লক-ইন এর মেয়াদ নিয়ে স্টেকহোল্ডাররা ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। এই শেয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) পক্ষে ৩ বছরের লক-ইন প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) পক্ষে ২ বছর বা তালিকাভুক্তির পরে ২টি বার্ষিক সাধারন সভা পর্যন্ত লক-ইন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ জুন) কমিশনের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে স্টেকহোল্ডাররা এই প্রস্তাব করেছেন। এর আগে ২৯ মে কমিশনের ৬৮৮তম সভায় আইপিও সংশোধনীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত জরিপের জন্য প্রকাশ করা হয়। যার জন্য ১৭ জুন সর্বশেষ সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, বৈঠকে বাজেটে ঘোষিত কোম্পানির রিজার্ভের উপর ট্যাক্স নিয়ে আলোচনা হয়। যা যৌক্তিক হয়নি বলে স্টেকহোল্ডাররা মনে করেন। তাই বিষয়টি পূণঃবিবেচনার জন্য করণীয় পদক্ষেপ নিতে কমিশনকে আহবান করেন স্টেকহোল্ডাররা।

বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন জানিয়েছেন, রিজার্ভের উপর ট্যাক্সের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। এটি পূণঃবিবেচনার সুযোগ আছে। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে আলোচনা করব। এছাড়া বিষয়টি সমাধানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাজ করবে। তাই বাজেটে রিজার্ভের উপর ট্যাক্স প্রস্তাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

স্টেকহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আইপিও সংশোধনীর বিষয়ে আশা করি আপনারা সম্মিলিতভাবে বাজারের জন্য ভালো এমন কিছু প্রস্তাব করেছেন। এছাড়া এরইমধ্যে আরও কিছু প্রস্তাবনা জমা পড়েছে। কমিশন সব কিছু যাছাই-বাছাই করে বাজারের জন্য যা ভালো হবে, সেই সিদ্ধান্তই নেবে।

স্টেকহোল্ডাররা আইপিওতে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে কমিশনের গৃহিত কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার পরিবর্তে ৩০ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ উত্তোলন করার প্রস্তাব করেছেন। এক্ষেত্রে যেটির পরিমাণ বেশি, সেই পরিমাণ তুলতে হবে। তবে আইপিওসহ পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ১০০ কোটি টাকার পরিবর্তে ৭৫ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ উত্তোলন করার প্রস্তাব করেছেন। এক্ষেত্রেও যেটির পরিমাণ বেশি, সেই পরিমাণ উত্তোলন করতে হবে।

এদিকে পাবলিক ইস্যুর তালিকার ক্ষেত্রে কোন কোম্পানির আইন-কানুন ব্যত্যয়ের বিষয়ে মতামত প্রেরণের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ৪৫ কার্যদিবস সময় চেয়েছেন। যা নিয়ে কমিশন ৩০ দিন সময়ের কথা বলেছেন।

আইপিওতে যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসাবে কোটা সুবিধা পেতে প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি ফান্ডের ক্ষেত্রে কিছু শর্তের প্রস্তাবনা দিয়েছে স্টেকহোল্ডাররা। এরমধ্যে রয়েছে- ফান্ডগুলোর বয়স রেজিস্ট্রেশন থেকে কমপক্ষে ৩ বছর হতে হবে, সর্বশেষ ২ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে, সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব জমা দিতে হবে ও সর্বশেষ ব্যালেন্স শীর্টের ৫ শতাংশ সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ থাকতে হবে। এছাড়া অন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি মার্কেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ থাকতে হবে।

স্টেকহোল্ডাররা আইপিও অনুমোদনের জন্য আবেদনের সময় ইস্যুয়ারকে পূর্বে নগদে উত্তোলিত মূলধনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ব্যবহার সম্পন্ন করার শর্ত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া বাকি ৫০ শতাংশ কোম্পানির আইপিওতে আবেদন শুরু হওয়ার আগে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

আইপিওতে বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা (মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ) ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে স্টেকহোল্ডাররা। আর সাধারন বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪৫ শতাংশ ও প্রবাসি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা (মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ) ৩৫ শতাংশ, সাধারন বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০ শতাংশ ও প্রবাসিদের কোটা ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে ৩৫ শতাংশের কম ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা পূরণ না হলে, ওই আইপিও বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদেরকে বঞ্চিত করে সংরক্ষিত আয় হিসাবে রেখে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যা শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের প্রবণতা রোধে কোম্পানির কোনো আয় বছরে সংরক্ষিত আয়, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে, অতিরিক্ত অংশের উপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।

বিজনেস আওয়ার/১৭ জুন, ২০১৯/আরএ

উপরে