ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬


প্রাণে নিয়মিত রিজার্ভ বাড়ানো হলেও মুনাফায় উন্নতি নেই

২০১৯ জুন ১৯ ১০:৪২:৪২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এএমসিএল-প্রাণে প্রতিবছরই মুনাফার অর্ধেকের বেশি কোম্পানিতে রেখে দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশে কোন উন্নতি হচ্ছে না। ফলে নিয়মিত রিজার্ভ বাড়ানো হলেও তা থেকে শেয়ারহোল্ডাররা কোন সুবিধা পাচ্ছেন না। যে কারনে এমন অযৌক্তিক রিজার্ভ বৃদ্ধিকে নিরুৎসাহিত করতে আগামি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার কর আরোপের ঘোষনা দিয়েছে।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদেরকে বঞ্চিত করে সংরক্ষিত আয় হিসাবে রেখে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যা শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের প্রবণতা রোধে কোম্পানির কোনো আয় বছরে সংরক্ষিত আয়, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে, অতিরিক্ত অংশের উপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।

১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রাণের ৮ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। আর কোম্পানিটিতে শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটির (রিটেইন আর্নিংস, প্রিমিয়াম, রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস ও পরিশোধিত মূলধন) পরিমাণ ৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রতিবছরই মুনাফার অর্ধেকেরও কম শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরন করে এই ইক্যুইটিতে উন্নিত করা হয়েছে।

প্রাণ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মুনাফার ৪৬ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরন করা হয়। বাকি ৫৪ শতাংশ কোম্পানিতেই রেখে দেওয়া হয়। এরপরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মুনাফার ৪৬ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৮ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৭ শতাংশ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৬ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরন করা হয়। এ হিসাবে প্রতিবছরই মুনাফার বেশি অংশই কোম্পানিতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

প্রাণে মুনাফার বড় অংশ নিয়মিত রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৪৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ইক্যুইটি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে ৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। এসময় ইক্যুইটির পরিমাণ বেড়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ২৪ শতাংশ। কিন্তু মুনাফা আগের ন্যায় রয়েছে।

দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার মুনাফা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা মুনাফা হয়।

আরও পড়ুন......
প্রাণের মুনাফায় গরমিল
শেয়ার ধারনের ব্যর্থতায় বাদ পড়া উজমা চৌধুরী এখন নমিনি পরিচালক

মুনাফার ন্যায় কোম্পানির গত ৫ অর্থবছরে লভ্যাংশে কোন উন্নতি হয়নি। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিবছরই ৩২ শতাংশ হারে শেয়ারপ্রতি ৩.২০ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছেন।

প্রাণের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট ২৫৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রয় হয়েছে। এরমধ্যে কোম্পানিটি থেকে ১২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।

প্রাণের নামে বাজারে শত শত পণ্য দেখা গেলেও সব পণ্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এএমসিএল প্রাণের না। তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পণ্যের মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন ধরনের জুস, পানীয়, মিনারেল ওয়াটার, কোমল পানীয়, আইচ পপ, ম্যাংগো বার। এরমধ্যে জুস পানীয় টেট্রা প্যাক, কাচেঁর বোতল, পিইটি বোতল ও ক্যানে বোতলজাত করা হয়।

প্রাণ নামেই আরও অসংখ্য কোম্পানি রয়েছে। যেগুলো থেকে প্রাণের অন্যসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরন করা হয়। যেমন- প্রাণ ফুডস, প্রাণ এগ্রো, প্রাণ এগ্রো বিজনেস, প্রাণ ডেইরী, প্রাণ কনফেকটিনারি, প্রাণ এক্সপোর্টস, প্রাণ বেভারেজ ইত্যাদি।

বিজনেস আওয়ার/১৯ জুন, ২০১৯/আরএ

উপরে