ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬


বিতর্কিত 'পাসওয়ার্ড', পরিচালকের নজিরবিহীন বক্তব্য এবং সেন্সর বোর্ডের পদক্ষেপ

২০১৯ জুন ২০ ১৪:২৫:৫৪

বিনোদন ডেস্কঃ এবারের ঈদের ব্যবসা সফল পাসওয়ার্ড ছবির পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। ছবিটি মুক্তির আগেই নকল বিষয়ক আলোচনা শুরু হয়।

মুক্তির পর সুনির্দিষ্টভাবেই নকলের অভিযোগ তোলা অব্যাহত থাকে এবং গণমাধ্যম এ এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে ওঠে। বলা হয়, কোরিয়ান ছবি ‘দ্য টার্গেট’ থেকে নকল করা হয়েছে ‘পাসওয়ার্ড’। কিন্তু দ্য টার্গেট ছবিটিও নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের পয়েন্ট ব্ল্যাংক ছবির আদলে। প্লটও একই। পাসওয়ার্ড ছবির পরিচালক মালেক আফসারী চাইলে বা একটু ভাবলেই এ অভিযোগের সহজেই নিষ্পত্তি করে ফেলতে পারতেন।

কিন্তু তা না করে পক্ষান্তরে তিনি নানা ধরনের যুক্তি তর্কের অবতারণা করে আলোচনা জিইয়ে রেখেছেন এবং পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন। হতে পারে সস্তাভাবে আলোচনায় থাকার জন্য এটা একটা তার অপকৌশল।

তিনি এই ছবিটির সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এখন পাসওয়ার্ড ২ বানানোর কথা ভাবছেন। এ নিয়ে তিনি হোমওয়ার্ক, তার ভাষায় বিশটি ছবি দেখে গবেষণার কাজ শুরুও করেছেন।

পাসওয়ার্ডের সাফল্যে পরিচালক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ জুন এর প্রযোজক বরাবর একটি প্রশংসাপত্র পাঠিয়েছে। একই দিনে ছবিটি নকল ও এর স্বপক্ষে পরিচালক মালেক আফসারীর নজিরবিহীন বক্তব্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এটি দিয়েছেন নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা আনন্দ কুটুম।

তিনি চলচ্চিত্রটির প্রযোজক এবং পরিচালক মালেক আফসারীর বিরুদ্ধে সেন্সর বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।১৭ জুন কোরীয় ছবি ‘দ্য টার্গেট’ এর একটি সিডিসহ নকল প্রমাণের আটটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন তিনি। আনন্দ কুটুম বলেন, ‘মালেক আফসারীর মতো পরিচালকদের জানিয়ে দিতে চাই, দেশ এখনো অথর্ব হয়ে যায়নি। এখানে যা ইচ্ছা তাই বলে দেওয়া যাবে না। যা ইচ্ছা চুরি করে হজম করাও যাবে না। আমি মনে করি, সেন্সর বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে।’

এর আগে সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ছবিটি নকল এমন অভিযোগ কেউ করেনি সেন্সর বোর্ডের কাছে। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে সেন্সর বোর্ড এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান নিজামূল কবীর বলেন, ‘বেশ কিছু এজেন্ডা নিয়ে আমরা একসঙ্গে বসবো। পরবর্তী সভার এজেন্ডায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলে এটি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। বিষয়টি নিয়ে অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

তবে সবচেয়ে প্রচলিত নিয়ম হলো যেসব জায়গায় বা দৃশ্যে সমস্যা বা নকলের অভিযোগ রয়েছে সেসব দৃশ্য কেটে আবার সেন্সরে জমা দেওয়া।’

দর্শকদের অনেকে বলছেন, দু’চারটি চরিত্রের লিঙ্গান্তর ঘটালেই একটি ছবি নকল অবমুক্ত হয়ে যায় না। মালেক আফসারীকে কথাটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। এছাড়া দৃশ্য কেটে যদি জমা দিতে বলা হয় তাহলে ছবিটি অর্ধেকের চাইতেও কমে যাবে।

বিজনেস আওয়ার/২০ জুন,২০১৯/আরআই

উপরে