ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬


সুশাসনের কারনে ঋণ খেলাপিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কম

২০১৯ জুন ২৫ ১১:১৮:১৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে তুলনামূলক সুশাসন বেশি। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে চলতে হয় ও প্রতিনিয়ত জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়। আর ব্যবসায় মুনাফা করে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার চাপ থাকে। যে কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে যা ইচ্ছা তাই করা সম্ভব হয় না। ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে দেশের শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশের মাধমে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির থেকে একাধিক অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখোমুখি হতে হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসাবে থাকে স্টক এক্সচেঞ্জ। আর সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের কাছে কর্মকান্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হয়। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে গণমাধ্যমের দৃষ্টি বেশি থাকে। যে কারনে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে তুলনামূলক সুশাসন বেশি থাকে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, আমার অত্যান্ত কমপ্লায়েন্ট। শেয়ারবাজারে সবাই কমপ্লায়েন্স মানতে চাই। এই মার্কেটের কমপ্লায়েন্স, রিকোয়্যারমেন্ট ও গভর্ণেন্স অনেক বেশি শক্ত।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল মার্কেটে ৩১৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটে (ওটিসি) রয়েছে ৬৫টি। এ হিসাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৮২টি। এরমধ্য থেকে দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকায় আছে ১০টি কোম্পানি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যায় ২.৬২ শতাংশ।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকায় ১০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির নাম থাকা শেয়ারবাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। আর এই নামমাত্র কোম্পানির নাম ঋণ খেলাপিতে থাকার কারন হচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও সুশাসন অনেক কেশি। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে বছরে ৪টি বোর্ড মিটিং ও একটি বার্ষিক সাধারন সভা (এজিএম) করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এইসব কোম্পানিতে অনেক শেয়ারহোল্ডার থাকায় জবাবদিহি করতে হয়। আর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে একটি সন্দুর ব্যাংকিং চ্যানেল মেইনটেইন করতে হয়। তাই সরকারের উচিত বিভিন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনা। তাহলে ঋণ খেলাপির পরিমাণ কমবে বলে তিনি মনে করেন।

শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকা শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলো হচ্ছে- লেক্সকো, মুন্নু ফেব্রিক্সস, ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং, এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, কেয়া কসমেটিকস, ফাঁস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স। এরমধ্যে লেক্সকো, এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং ও মুন্নু ফেব্রিক্সস ওটিসি মার্কেটে রয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ খেলাপি ওটিসি মার্কেটের লেক্সকো। এ কোম্পানির ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকা। এছাড়া মুন্নু ফেব্রিক্সসের ২৬৭ কোটি টাকা, ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ২৫৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) ২০১ কোটি টাকা, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ১৮০ কোটি টাকা, এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিংয়ের ১৩০ কোটি টাকা, এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের ১২১ কোটি টাকা, কেয়া কসমেটিকসের ৯৯ কোটি টাকা, ফাঁস ফাইন্যান্সের ৭৭ কোটি টাকা ও এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের ৬৯ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে।

এএফসি ক্যাপিটালের সিইও মাহবুব হোসেন মজুমদার বিজনেস আওয়ারকে বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে তুলনামূলক সুশাসন ভালো। এছাড়া এইসব কোম্পানির জবাবদিহিতা বেশি। যে কারনে চাইলেই একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি সব কিছু করতে পারে না। এর ফলে ঋণ খেলাপিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কম। এটা নিসন্দেহে শেয়ারবাজারের জন্য একটি ভালো দিক।

আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আহামেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজারে আসার জন্য একটি কোম্পানিকে অনেক নিয়ম-কানুন পরিপালন করতে হয়। এখানে কোন ঋণ খেলাপি কোম্পানির আসার সূযোগ নেই। এছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরেও একটি নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। যে কারনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সুশাসন বেশি। আর এই কারনেই ঋণ খেলাপির সংখ্যায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি কম।

বিজনেস আওয়ার/২৫ জুন, ২০১৯/আরএ

উপরে