ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে নিরীক্ষকের শঙ্কা ছিল

সাবসিডিয়ারিতেও পিপলস লিজিংয়ের লোকসান

২০১৯ জুলাই ১৭ ১০:৩৫:০১

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের নিজস্ব ব্যবসার পাশাপাশি অধীনস্থ (সাবসিডিয়ারি) ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টেও পুঞ্জিভুত লোকসান রয়েছে। যাতে সাবসিডিয়ারিতে পিপলস লিজিংয়ের বিনিয়োগ কমে এসেছে। যা পিপলস লিজিংয়ের উপর বাড়তি চাপ ফেলেছে।

পিপলস লিজিংয়ের ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে নিরীক্ষক কোয়ালিফাইড (আপত্তিকর) মন্তব্য করেছেন।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, সাবসিডিয়ারি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টে পিপলস লিজিংয়ের বিনিয়োগ ২০ কোটি ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু ওই কোম্পানির ইক্যুইটি ১০ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। এরফলে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগ কমেছে ৯ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এছাড়া ওই বিনিয়োগের বিপরীতে এফআইডি সার্কুলার নং-৬ অনুযায়ি সঞ্চিতি গঠন করা হয়নি।

পিপলস লিজিং ২০১৮ সালে ১৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লোকসান করে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক। তবে সাবসিডিয়ারি পিএলএফএস ইনভেস্টেমেন্টসহ ২০১৮ সালে মোট লোকসানের পরিমাণ ১৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এতে করে পুঞ্জিভুত লোকসান দাড়িঁয়েছে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এই লোকসানের ফলে কোম্পানিটির চলতি সম্পদের থেকে চলতি দায় ৩.১১ গুণ বেশি হয়ে গেছে। যা কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরী করেছে।

আরো পড়ুন :পিপলস লিজিংয়ের হাতে মাত্র ১ লাখ টাকা

পিপলস লিজিংয়ে শেয়ারহোল্ডাররা কিছুই পাবে না

এদিকে কোম্পানির ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাবে অনেক সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। যা নিরীক্ষককে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এমতাবস্থায় আর্থিক হিসাবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের চিত্র ফুটে উঠতে পারে নিরীক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন পিপলসের অবসায়নে সরকার সম্মতি দিয়েছে। এ অবসায়নের সিদ্ধান্ত হবে আদালতে, এ জন্য আইনজীবীও নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরবর্তীতে ১১ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। যা ১৪ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১৭ জুলাই, ২০১৯/আরএ

উপরে