sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


'জলাশয় ফেলে না রেখে মাছ চাষ করুন'

০১:২৪পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাড়ির আশপাশের ডোবা, পুকুর ও জলাশয় ফেলে না রেখে মাছ চাষ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেছি। এখন দৃষ্টি পুষ্টির দিকে। বিল, ঝিল, হাওর, বাওর, নদী নালায় পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করতে হবে। মাছের চাইতে এত নিরাপদ আমিষ আর নেই।

মিষ্টি পানির মৎস্য উৎপাদনে আমরা তৃতীয় স্থানে রয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে আমরা যেন প্রথম স্থান লাভ করতে পারি, মিষ্টি পানির মৎস্য চাষে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রথম স্থান অধিকার করার।

পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‘মৎস্য চাষে গড়বো দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার পালিত হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৯।

শুরুতেই মৎস্য চাষের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইসুল আলম মন্ডল।

মৎস্য চাষ, রেণু উৎপাদনসহ মৎস্য সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ৮ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে স্বর্ণপদক এবং ৯ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে রৌপ্য পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবনের লেকে মাছের পোনা ছেড়ে দিয়ে মাছ চাষে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। পরিকল্পিতভাবে মাছ উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা যায়।

এ জন্য মাছের উৎপাদন বাড়ানোর এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন মৎস্য বিদেশে রফতানি করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি।

তিনি বলেন, ‘জাল যার জলা তার’ আমরা এর ভিত্তিতে জেলেদের বিভিন্ন জলাশয় বরাদ্দ দিচ্ছি। সেখানে তারা মৎস্য উৎপাদন করে আমাদের চাহিদা মেটাচ্ছে।

মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমরা বাগেরহাটে চিংড়ি গবেষণা, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। যেন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, সেজন্য হাওরে পরিকল্পিতভাবে মৎস্য চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এরই মধ্যে নদীগুলোর ড্রেজিংকাজ আমরা শুরু করেছি। নদী ড্রেজিং করে আমাদের পানির প্রবাহ যাতে বৃদ্ধি পায় এবং পানির ধারণক্ষমতা যাতে বৃদ্ধি পায়, সেদিকেও আমরা কাজ শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী মৎস উৎপাদন এবং রফতানির ক্ষেত্রে মাছের মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা খাদ্যের নিরাপত্তা অর্জন করতে পেরেছি। এবার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবো। মাছ হচ্ছে পুষ্টির নিরাপদ উৎস।’

দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ ভাগ মানুষ মৎস্য খাত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে উল্লেখ করে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা যে মাছ বিদেশে রপ্তানি করি সেই রপ্তানির ক্ষেত্রে মানটা বজায় রাখতে হবে। আমাদের ল্যাবরেটরি ছিলো না। আমরা ঢাকা চট্টগ্রাম খুলনায় তিনটি ল্যাবরেটরি করেছি।

যে মাছটা আমরা রপ্তানি করবো তা যেনো মানসম্মত হয়। অতীতে এ নিয়ে আমাদের কিছু দুর্ঘটনা রয়েছে। আর যাতে না হয় আমরা সেই দিকে দৃষ্টি দিবো।

এ সময় মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য নৌবাহিনীসহ ৮ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণপদক এবং ৯ জনকে রৌপ্য পদক তুলে দেন সরকার প্রধান।

বিজনেস আওয়ার/১৮ জুলাই, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

রাজধানীতে হোটেল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে হোটেল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

উপরে