ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬


'আসুন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের পার্লামেন্ট তৈরি করি'

২০১৯ জুলাই ২০ ২১:৫৯:১৭

বিজনেস আওয়ায় প্রতিবেদকঃ ‘জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের বাঁচার অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। আসুন, আমরা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ি, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের পার্লামেন্ট তৈরি করি।’

শনিবারচট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার নুর আহমদ সড়কে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশেবিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ৩০ থেকে ৪০ বছর দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে এখনও ৩৬টি মামলা দেওয়া আছে। বিএনপির এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। তার ব্লাড প্রেশার ও সুগার ওঠা নামা করছে। কিন্তু বেগম জিয়ার প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা তাকে দেওয়া হচ্ছে না। অতি দ্রুত মুক্তি দিয়ে তার প্রাপ্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তাদের (আওয়ামী লীগ সরকার) সঙ্গে জনগণের কোনও সম্পর্ক নেই; তাদের জনগণের কাছে কোনও জবাবদিহিতা নেই। আর সেই জন্যই আজকে যখন বন্যা হচ্ছে, তখন তাদের কাউকে জনগণের পাশে দেখতে পাচ্ছেন না, মানুষের পাশে দেখতে পাচ্ছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, যারা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত। আপনারা কালকের সংবাদপত্র পড়েছেন? যদি পড়েন, তাহলে দেখবেন সরকার হাজিদের তত্ত্বাবধানের জন্য একটি টিম পাঠাচ্ছে, ওই টিমের সদস্য হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হজ করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন। দেখেন, সাংবিধানিক পদগুলোর এখন কী অবস্থা! এটি কী ভয়ংকর! তিনি (নিবার্চন কমিশনার) হজ তত্ত্বাবধান করতে যাচ্ছেন; নির্বাচন তত্ত্বাবধান বাদ দিয়ে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যখন মানুষ চাচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক তখন সেখানে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, আদালতে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে, দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের মা-বোন কেউ রেহাই পাচ্ছে না। আজকে কোথাও কোনও জবাবদিহিতা নেই। এই জবাবদিহিতা না থাকায় এই নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ঢোল বাজায়, বাংলাদেশ নাকি এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তারা বলে, বাংলাদেশে নাকি উন্নয়নের নহর বয়ে যাচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেও বিশ্ববিখ্যাত একজন অর্থনীতিবিদ এসে বলে গেছেন, বাংলাদেশ বড় ধরনের ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে এবং রিজার্ভ ফাঁকা হয়ে গেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে লুট করে শেষ করে দিয়েছে। একটা ব্যাংকও নেই, যেখানে সুষ্ঠু লেনদেন আছে। শেয়ার মার্কেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়িয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর সব ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার পুলিশ প্রশাসন, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। এমনকি মিডিয়া, আমাদের সাংবাদিক ভাইদের মাঝে ঢুকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে দিয়েছে; যেন খবর তাদের ইচ্ছেমতো প্রকাশিত হয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তাই শিগগিরই এই নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।’

বিজনেস আওয়ায়/২০ জুলাই/আইআর

উপরে