sristymultimedia.com

ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বিআইএফসির ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা

১০:৫৮এএম, ২১ জুলাই ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা করার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানিটির ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাবে নিরীক্ষায় এ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বিআইএফসি শেষ ৩ বছর ধরে লোকসান গুণছে। যাতে ইক্যুইটি ৭৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। এছাড়া বিনিয়োগের পরিমাণও খুব বাজে অবস্থা। এমতাবস্থায় কোম্পানির ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এছাড়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পদ রিয়ালাইজ ও দায় পরিশোধে অক্ষম হতে পারে। আর কোম্পানিটির ২০১৮ সালে মূলধনের পর্যাপ্ততার রেশিও ৭৭.৯৫ শতাংশ ঋণাত্মক রয়েছে।

বিআইএফসি ইন্টারেস্ট সাসপেন্সবাবদ ২০১৮ সালে ২০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা হিসাব করেছে। যাতে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোট ইন্টারেস্ট সাসপেন্স দাড়িঁয়েছে ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকায়। এক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে ২২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এভাবে ২০১৫ সাল থেকে বিআইএফসি কর্তৃপক্ষ কম ইন্টারেস্ট সাসপেন্স গঠন করে আসছে।

ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস আইন ১৯৯৩, সেকশন-১৬ অনুযায়ি, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ব্যয় অথবা ব্যবহার করবে না এবং যেকোন ধরনের ফাইন্যান্সিয়াল, কমার্শিয়াল, এগ্রিকালচারাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনা বা ধারন করার জন্য রিজার্ভ করা যাবে না। কিন্তু কোম্পানির লোকসানের কারনে ইক্যুইটি ৭৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণাত্মক সত্ত্বেও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিআইএফসির বিনিয়োগ রয়েছে ২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-১২ অনুযায়ি, রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভের উপর ডেফার্ড টেক্স গণনা প্রয়োজ্য হলেও বিআইএফসি তা করে না। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ রয়েছে।

আরো পড়ুন :শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালককে ঋণ প্রদানের সম্মতি

কোম্পানিটির মোট প্রদত্ত ঋণ, লীজ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৮৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে সুনমান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ৬৩৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বা ৭৬.০১ শতাংশ। ২০১৪ সাল থেকে সুনমান গ্রুপের এই তথ্য আর্থিক হিসাবে দেখানো হচ্ছে। এরইমধ্যে সব ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। যার কোন টাকা ২০১৮ সালে আদায় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিশ্বাস গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ২০ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ২.৩৯ শতাংশের মধ্যে ১.৩০ শতাংশ আদায় হয়েছে। বাকি টাকা আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এফআইডি সার্কুলার অনুযায়ি, প্রতিটি ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসের কমপক্ষে মোট টার্ম ডিপোজিটের উপর সাপ্তাহিক গড় ভিত্তিক ২.৫ শতাংশ হারে ক্যাশ রিজার্ভ রাখতে হয়। একইসঙ্গে প্রতিদিন ভিত্তিতে ২ শতাংশ সঞ্চিতি গঠন করতে হয়। কিন্তু কোম্পানিটিতে নিরীক্ষার বিভিন্ন সময় ক্যাশ রিজার্ভে ঘাটতি দেখা গেছে। ২০১৮ সালের জুন মাসের ২য় সপ্তাহে ক্যাশ রিজার্ভ ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা দরকার হলেও ছিল ৬৮ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৩ সালের এফআইডি সার্কুলার নং ৬ অনুযায়ি, প্রতিটি ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানকে দায়ের ৫ শতাংশ সংবিধিবদ্ধ তারল্য রাখতে হয়। তবে নিরীক্ষাকালীন বিআইএফসিতে এর ঘাটতি পেয়েছেন।

বিআইএফসি কর্তৃপক্ষ ৪টি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে পারেনি। যাতে নিরীক্ষক বিআইএফসির ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যালেন্সের সত্যতা যাছাই করতে পারেনি। এছাড়া বিআইএফসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যাংকের ১৪টি ঋণের স্টেটমেন্ট দিতে না পারায়, ২৩২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার দায়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে কোম্পানির পদত্ত মোট ৮৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ঋণের মধ্যে ৮০৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ৯৬.২২ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে। যা কোম্পানির গুরুতর বিপত্তিতে ভোগার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিআইএফসি ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন ও জিএমজি এয়ারলাইনসে। আর ওই বিনিয়োগের বিপরীতের শতভাগ সঞ্চিতিও করেছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিআইএফসির শেয়ার দর দাড়িঁয়েছে ২.৯০ টাকায়।

বিজনেস আওয়ার/২১ জুলাই, ২০১৯/আরএ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

বিদায়ী সপ্তাহে সব সূচকে পতন
ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৭’শ কোটি টাকা

উপরে