ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬


'আপাতত আন্দোলন স্থগিত'

২০১৯ জুলাই ২১ ১৪:৪১:২৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের কিছুদিনের সময় দিয়ে বিনিয়োগকারীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরী। এর আগে ১৫ দফা দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্বারকলিপি জমা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধি দল।

রবিবার (২১ জুলাই) বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টি ফোর ডট কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মিজানুর রশিদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমিসহ বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১৫ দফা দাবি জানিয়ে স্বারকলিপি জমা দিয়েছে। বাজারকে তার অভীষ্ট লক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীরা অনেক চেষ্টা করছি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। স্বারকলিপি জমা দেওয়ার মাধ্যমে সে দায়িত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছি। এখন তিনিই এর ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আশা রাখছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চেষ্টা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে তার সাথে কথা বলা। কিন্তু লন্ডন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় সেদিন দেখা করা সম্ভব হয়নি। তবে সফর শেষে তিনি আমাদের সাথে দেখা করবেন বলে কার্যালয় থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। সামনে এ ব্যাপারে আবার চেষ্টা করা হবে। সাধারন বিনিয়োগকারীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যদি আলোচনায় বসেন তাহলে বাজার ঊর্ধ্বমুখীকরনে তাৎপর্যপূর্ণ সমাধান বের হয়ে আসবে।

এদিকে রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা টাওয়ারে বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ আজ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় সেখানে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি খুবই কম। যে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আছে, তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

'যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবি রেখে স্মারকলিপি দিয়েছি, বিনিয়োগকারীদের মনে এখন একটা শেষ আশা তৈরি হয়েছে' জানিয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে এক বিনিয়োগকারী বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টি ফোর ডট কমকে বলেন, 'শেয়ারবাজার ঠিক করার ব্যাপারে অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তি অনেক কথা বলেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থা নানান কিছু করার প্রত্যাশা দিয়েছেন। কিন্তু কই বাজারের অবস্থা তো পরিবর্তন হচ্ছে না! কারন কি? কারন তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে না। ডিজিটাল বাংলাদেশে শেয়ারবাজারের মত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গাকে উন্নত করার মত, সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার মত লোকজন কি নেই?'

বিক্ষুব্ধ আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক উত্থান পতন থাকবে। অস্বাভাবিক দর পতন করে কুচক্রীরা বাজার থেকে বিনিয়োগকারীর টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এসব বন্ধ করার দিন এসে গেছে। আপাতত আমাদের আন্দোলন কিছুদিন স্থগিত থাকবে। দেখব উন্নত বাজারের স্বার্থে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধায়নে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে এমন আশা রাখছি আমরা। বাজারের অবস্থা ঘুরে না দাঁড়ালে আবার রাজপথে নামবে বিনিয়োগকারীরা।

'শেয়ারবাজার পড়ছে কেন, জবাব চাই দিতে হবে' এমন স্লোগান দিয়ে ডিএসই'র সামনে গত ১০ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ৭ কার্যদিবস মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শেয়ারবাজারের সাধারন বিনিয়োগকারীরা। উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরের আগেও দেড় মাসের মত বিনিয়োগকারীদের আন্দোলন চলেছিল।

বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো হচ্ছে :

১। ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যু মূল্যে শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে। বাইব্যাক আইন পাশ করতে হবে।

২। ২ সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যে সকল কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত ২%, সম্মিলিতভাবে ৩০% শেয়ার নেই, ঐ সকল উদ্যোক্তা পরিচালক ও কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ধারণ কতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৩। প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের লকইন পিরিয়ড ৫ বছর করতে হবে। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার আইপিও, রাইট শেয়ার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

৪। খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী শেয়ারবাজার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বলতে কোন মার্কেট থাকতে পারবে না। কোম্পানি আইনে কোথাও জেড ক্যাটাগরির ও ওটিসি মার্কেটের উল্লেখ নেই।

৬। পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ বাতিল করতে হবে।

৭। পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে বাধ্য করুন এবং প্রত্যেক ফান্ডের নূন্যতম ৮০% পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে।

৮। সাধারণ বিনিয়োগকারী আইপিও কোটা ৮০% করতে হবে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ১০% হারে লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে।

৯। জানুয়ারি ২০১১ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোনের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

১০। পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ ৩% সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে ৫% হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোন হিসাবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।

১১। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

১২। জীবন বীমা খাতের বিপুল অলস ও সঞ্চিত অর্থের ৪০% পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করুন।

১৩। জীবন বাচাতে এবং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

১৪। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিপরীতে বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ নামে বিকল্প স্টক এক্সচেঞ্জ করতে হবে, এর ফলে কারসাজি বন্ধ করা যাবে।

১৫। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশনারদের অপসারণ করে কমিশন পুন:গঠন করতে হবে।

বিজনেস আওয়ার/২১ জুলাই, ২০১৯/আরআই

উপরে