ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬


জলবায়ু সংকট বিপর্যয় হচ্ছে, জাতিসংঘের আভাস

২০১৯ জুলাই ২৭ ১৪:৩৫:১০

প্রত্যেক সপ্তাহে কমপক্ষে একটি করে জলবায়ু সংকট বিপর্যয় হচ্ছে, জাতিসংঘের আভাস। জলবায়ু বিশ্লেষকগণ বলছে, উন্নয়নশীল দেশ গুলোকে অবশ্যই এই বিশাল প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রত্যেক সপ্তাহে, জলবায়ু সংকট বিপর্যয় এক পয়েন্ট করে বাড়ছে। যদিও বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক মনোভাব এবং কার্যকলাপগুলোর খুব দ্রুত প্রয়োজন উন্নয়নশীলদেশ গুলোকে এর বিশাল প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ও প্রস্তুত করা, জাতিসংঘের হুশিয়ারি।

মোজাম্ববিকে সাইক্লোন ইদাই, কেনেথ এমনকি চেন্নাইয়ে পানি বিপর্যয়ের মতো খবরও সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাগায় হেডলাইন হয়েছে। কম সম্ভাবনা সত্ত্বেও অনেক জাগায় এটা খুব দ্রুত মৃত্যু, ঘরছাড়া এবং বিভিন্ন রকম দূর্যোগের জন্ম দিয়েছে যা পূর্ভাভাসে ইংগিত করা ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে । জাতিসংঘের মহাসচিবের বিপর্যয় ঝুঁকি কমানো বিষয়ক প্রতিনিধি মামি মিজুতরি বলেন, " এটা ভবিষ্যতের বিষয় না, এটা আজকেরই বিষয়।"

এর মানে এটা দেখা যাচ্ছে যে, জলবায়ু সংকট সমস্যা এখন থেকে দীর্ঘ-মেয়াদি হিসেবে না দেখে এখন থেকেই এর পিছনে সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। মিজুতরি আরো বলেন, " জনগণের এখন প্রয়োজন অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে প্রচুর কথা বলা।"

জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপর্যয় ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রত্যেক বছরে ৫২০ বিলিয়ন ডলার, পরবর্তী ২০ বছরে যেখানে পরিকাঠামোর অতিরিক্ত ব্যয় প্রতিহত করবে বিশ্ব-উষ্ণতার ৩% প্রভাব অথবা ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ মুল্যের সমান।

মিজুতরি বলেন, " এটা অনেক বিশাল অর্থ নয় [ পরিকাঠামো ব্যয়কে ইংগিত করেন ], কিন্তু বিনিয়োগকারীরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট করছে না। স্থিতিস্থাপকতার নিজেরই প্রয়োজন একটা পন্য হয়ে যাওয়ার, যার জন্য জনগণ দাম দিবে।" এর মানে নতুন অবকাঠামোর মানদন্ড নিয়মমাফিক করতে হবে, যেমন গৃহায়ন, রাস্তা, ট্রেন যোগাযোগ, শিল্পকারখানা, শক্তি ও পানি সাপ্লাই, যাতে করে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন বিপর্যয়ে যেমন বন্যা, খরা, ঝড়ে কম ভেদনীয় হয়।

ততক্ষণ পর্যন্ত, আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে করে গ্রীনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ না হয় কিন্তু এর সাথে বিভ্রান্ত হলে চলবে না যে জলবায়ু সংকটের প্রভাব কমাতে হবে। এখানে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ বিগত বছরে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও বিজ্ঞানীরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিল যাতে জনগণ কোন ভুল ধারণাই না থাকে যে, আমাদের গ্যাস নিঃসরণ বন্ধের কোন দরকার নাই কারণ আমরা তো প্রচুর বৃক্ষরোপন করছিই।

মিজুতরি বলেন এই সমস্ত আলোচনার সময় পার হয়ে গেছে, " আমরা কথা বলছি জরুরী জলবায়ু এবং জলবায়ু সংকট নিয়ে কিন্তু আমরা যদি এটাকে মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে বাঁচবোনা।" তিনি আরো বলেন স্থিতিস্থাপকতা উপর বিনিয়োগ না করে, আমাদের এর ঝুঁকি গুলো নিয়ে পর্যালোআনা করতে হবে।

কম প্রভাব পড়ে এমন অনেক বিপর্যয়কেই প্রতিহত করা যায় যদি জনগণ আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু সতর্কবার্তা পায়, বন্যায় আরো ভালো অবকাঠামো পায় অথবা খরায় পানি সরবরাহ পায় এবং সরকারকে আগে থেকেই সচেতন থাকতে হবে কোন এলাকা বেশী দূর্যোগ প্রবন। মিজুতরি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, " এই বিপর্যয়কে রুখতে হলে আমাদের সবাইকে একটা নির্দিষ্ট বডি হিসাবে কাজ করতে হবে। "

উপরে