ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬


ভোজ্যতেলেরও দাম বেড়েছে

২০১৯ জুলাই ২২ ১৫:২৯:১২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বাজেটে কর আরোপের কারণে বাজারে বাড়ছে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম। রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ টাকা বেড়েছে। বাকিরা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তাতে ভোজ্যতেলের মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ছাড় তুলে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে।

বাজেট কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ এডিবল, সিটি, মেঘনা, টি কে ও এস আলম গ্রুপের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়।

জানা গেছে, তাদের প্রস্তাবে কর আরোপ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে লিটারে প্রায় ৮ টাকার মতো মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। অবশ্য এতটা বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।

এ প্রসঙ্গে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেংআমরা প্রস্তাব দিয়েছি। এখন ট্যারিফ কমিশন সেটা পর্যালোচনা করবে। এটা নিয়ে বৈঠক হবে। এরপর বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন দাম ঘোষণা করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে ২ লাখ টন ভোজ্যতেল উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি হয়।

পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি করে পরিশোধন করে খোলা ও বোতলজাত অবস্থায় বাজারজাত করে। বাংলাদেশে এডিবল অয়েলের রূপচাঁদা, সিটির তীর ও মেঘনার ফ্রেশ বাজারের উল্লেখযোগ্য।

আইন অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে মূল্য বাড়াতে হলে ট্যারিফ কমিশনকে আগে জানাতে হয়। দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়ে উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ৯ জুলাই চিঠি দেয়।

চিঠিতে বলা হয়, বাজেটে ভোজ্যতেলের আমদানি, উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রদান করতে হবে। এ কারণে সদস্যরা মূল্যবৃদ্ধি করেছেন।

জানা গেছে, রূপচাঁদার সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের একটি বোতলের নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ধরা হয়েছে ৫৩০ টাকা, যা আগের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। তীরের পাঁচ লিটারের বোতলের এমআরপি এখনো ৫০০ টাকা। অন্যদিকে এক লিটারের দর ১০২ টাকা।

কোম্পানিগুলো নতুন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে এক লিটারের বোতলের কারখানা পর্যায়ে মূল্য ধরা হয়েছে ১০১ থেকে ১০৩ টাকা। অবশ্য একটি কোম্পানি ৯৮ টাকা ও একটি কোম্পানি ১১২ টাকা মূল্য নির্ধারণের কথা বলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় একটু বাড়িয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকার সেটা পর্যালোচনা করে যৌক্তিক দাম ঠিক করে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ সময়ে গড় দাম ছিল ৭৫৭ ডলার। পরের তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় টনপ্রতি ৭৪০ ডলার।

বিজনেস আওয়ার/২২ জুলাই, ২০১৯/এ

উপরে