ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬


প্রিয় মাতৃভূমি, বিশ্ব দরবারে সুনাম ক্ষুন্ন হতে দেব না

২০১৯ জুলাই ২৫ ১৩:০২:৫৩

নিজ মাতৃভূমি সকলের কাছেই অতি প্রিয়! বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করার জন্য প্রত্যেকটা বাঙালি এই বাংলার মাটিকে নিয়ে গর্ভ করে, বাংলার মাটির বুকে জন্মেছে এই ভূমির আলো বাতাসে বড় হয়েছে এবং এখন জীবিত আছে। বাঙালির হৃদয়াবেগ কতটা গভিরে জড়িয়ে আছে ভাষায় ব্যাখ্যা দেওয়ার শব্দ চয়ন সহজ নয়!

মানুষ পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, মানুষ তার জন্ম সত্তাকে ভুলতে পারে না, জন্ম সত্তা সৃষ্টিকর্তার এক অকৃত্রিম বন্ধন। (Regardless of where humans are on the earth, man cannot forget his birth, the birth being, a genuine bond of the Creator.)

আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে, নিজের স্বাধীন সত্তাকে ফিরিয়ে আনতে স্বীকার করতে হয়েছে অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা ও দিতে হয়েছে তাজা রক্ত। সেই মাতৃভূমিকে মানুষ হৃদয়ে লালন করবে সেটা একদমই স্বাভাবিক।

প্রিয় মাতৃভূমির উপর যে শকুনের দল কালো থাবা দিতে চাই বাঙালি জাতি কখনো মেনে নেবে না। বাঙালি হচ্ছে বীরের জাতি। বাঙালি জাতি কারো করুনার জন্য অপেক্ষা করে না।( The Bengali nation is a nation of heroes. The Bengali nation does not wait for any mercy.)

সম্প্রতি একটি ঘটনা বাঙালির হৃদয়ে চরম আঘাত করেছে বাংলাদেশের বৈধ অধিবাসী ও নাগরিক “প্রিয়া সাহা” যিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, চরম আঘাত দিলেন বাঙালির হৃদয়ে। প্রিয়া সাহা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৭ জন বিভিন্ন ধর্মের নির্যাতিত, অত্যাচারিত, অধিকার বঞ্চিত মানুষেরা বিশ্বের মোড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তাদের অভিযোগ উত্থাপন করেন।

তার মধ্যে প্রিয়া সাহা ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম চরিত্রের, তিনি ডোনাল ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতে অভিযোগ করলেন বাংলাদেশ ৩ কোটি ৭০ লক্ষ সংখ্যালঘু গায়েব হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ গুম হয়ে গিয়েছে! কি ভয়ানক জঘন্য মিথ্যা তথ্য, যেখানে অর্থাৎ বাংলাদেশ সংখ্যালঘুর সংখ্যা এক কোটির কাছাকাছি সেখানে কিভাবে এত সংখ্যক লোক গুম হয়?

তিনি আরো বলেছেন বর্তমানে বাংলাদেশ ১ কোটি ৮০ লক্ষ বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুরা বসবাস করে, তাদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাথে করমর্দন করে জানতে চান কারা নির্যাতন করছে? সে তখন বলেন, বাংলাদেশের মৌলবাদী সন্ত্রাসী মুসলমানরা।

প্রিয়া সাহা আরো বলেন আপনার সাহায্য অর্থাৎ জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য কামনা করেন যাতে তারা তাদের নিজ মাতৃভূমিতে ভালো ভাবে বসবাস করতে পারেন। বর্তমানে সব মিডিয়াতে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকান রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার প্রিয়া সাহার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বাংলাদেশের হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এই দায়ভার নিতে রাজি নয় তারা বলেছেন এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। (The Hindu, Buddhist and Christian Unity Council of Bangladesh are not willing to accept this responsibility. They say it is her personal opinion.)

পিরোজপুরে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও প্রিয়া সাহার অভিযোগটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রিয়া সাহা নিজে একজন পোস্টেড দায়িত্ববান ও সুবিধাভোগী সেই সাথে তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তারপরেও প্রিয়া সাহা কেন দেশের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে, এত বড় মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন এর রহস্য বের করা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যকীয।

বিগত সময়ে এদেশের কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা কোন ধর্মের কোন মানুষ দেশের বিপক্ষে বিদেশী মোড়লদের কাছে এমন মিথ্যা তথ্য ও নালিশ প্রদান করেনি। (In the past no people of any minority community or religion of this country have not provided such false information and complaint against foreigners against the country.)

সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের সুনাম আছে, বাংলাদেশকে বলা হয় ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ সকল ধর্মের মানুষ এখানে মিলেমিশে বসবাস করে একজন আরেকজনের সাথে আত্মার সম্পর্ক। এক ধর্মের অনুষ্ঠানে দেখা যায় অন্য ধর্মের মানুষেরা আপ্যায়িত হয়ে থাকে।

সম্প্রতি দেখা গিয়েছে ১০ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের ভূ-খন্ডে আশ্রয় নিয়েছে। এই বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে সব রকম সহায়তা করেছে যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশ বা বিদেশে যে কোন ষড়যন্ত্র করুক না কেন, এদেশের স্বাধীনচেতা মানুষ কখনো বরদাস্ত করবে না। এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মুখ্য ভূমিকায় ছিল এদেশের সাধারণ মানুষের। (The people of this country played a leading role in achieving independence of this country.)

প্রিয়া সাহা এই দেশের ১৬ কোটি মানুষের সাথে ও তার জন্ম সত্তার সাথে চরম অন্যায় ও প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশের সমগ্র মানুষ প্রত্যাশা করে, এইসমস্ত মিথ্যাবাদী, কুলাঙ্গার, প্রতারকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে করে ভবিষ্যতে কেউ দেশ দ্রোহী কোন কর্মকান্ড করার সাহস না পায়।

লেখকঃ সবুর মিয়া, বেসরকারি, চাকরিজীবী।

বিজনেস আওয়ার/২৫ জুলাই, ২০১৯/এ

উপরে