ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬


ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

২০১৯ আগস্ট ০৪ ০৮:২২:৪৬


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঢাকার বাইরের সব জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৯০৫ জন। আর শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৯০ জন, বৃহস্পতিবার ছিল তিন হাজার ৪৬৪জন।

বর্তমানে রোগী ভর্তি আছে দুই হাজার ৩৮১ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই হাজার ৫২৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৮৫৮ জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৪৩ জন। ঢাকা বিভাগের ১২ জেলায় মোট ভর্তি আছেন ৪২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২১৫ জন।

চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হপসাতালসহ ১১ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১২৯ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৩২ জন।

চাঁদপুরে শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত এক মাসে ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত জুন মাসে এখানে চার জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নেন। জুলাইয়ে ভর্তি হন ১০০ জন। আক্রান্তদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

৩ আগস্টে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৮০ জনে উন্নীত হয়েছে। খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) জানায়, গত ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত খুলনা জেলায় ১৪২ জন ও যশোর জেলায় ১৪৮ জন, বাগেরহাটে ১৮ জন, সাতক্ষীরায় ৩৪ জন, ঝিনাইদহে ৫০ জন, মাগুরায় ২৮ জন, নড়াইলে ১৯ জন, কুষ্টিয়ায় ১১২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২১ জন ও মেহেরপুরে আট জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরে (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন ৭১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে খুলনায় ৯ জন, সাতক্ষীরায় তিন জন, বাগেরহাটে আট জন, যশোরে ১৪ জন, ঝিনাইদহ সাত জন, মাগুরায় আট জন, নড়াইলে এক জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় চার জন ও মেহেরপুরে দুই জন রয়েছেন।

এদিকে, যশোরে গাণিতিক হারে ডেঙ্গু বাড়ছে উল্লেখ করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ হাসপাতালে ২৮ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল ৩১ জন, ২৯ জুলাই ছিল ৩৭ জন, ৩০ জুলাই ছিল ৫০ আর আজ ৩১ জুলাই ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৫৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূরুন নাহার বেগম জানান, কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।বর্তমানে শিশুসহ ৩১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খুলনা বিভাগের ১০ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ ১০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ৪০৯ জন।

রাজশাহী বিভাগে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ ৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩২৫ জন।

রংপুর বিভাগে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ গত ২৪ ঘণ্টা ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ২১৩ জন। ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৭৭ জন।

বরিশাল বিভাগে শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজসহ ছয় জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৯৭ জন। বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, শনিবার (৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ জন।

সিলেট বিভাগে এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ চার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩১জন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ১০০ জন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে, সামনে ঈদের সময় মহাদুর্যোগে পরিণত হবে। ভয়াবহভাবে সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা করছেন।

ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যেই দেশের ৬৪ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আসন্ন ঈদের সময়ে লাখ লাখ মানুষ ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে ঢাকার বাইরে যাবে। তখন আরও অনেকেই আক্রান্ত হবে।’

এদিকে, অবহেলার কারণে ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব।

তিনি বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এখন স্বাস্থ্য অধিদফতরকে দেশের সব জেলা-উপজেলার চিকিৎসকদেরকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, সচেতন করতে হবে।

গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, কেন বাড়ছে এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ঢাকায় সেসব শিক্ষার্থী মেস থাকেন, তারা অনেকেই ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন, বাড়ি গেছেন।

তবে গ্রামাঞ্চলে ছড়ানোর আরেকটি কারণ হলো, এডিস এজিপ্টি মশা যেমন নাগরিক মশা, শহরের মশা, মানুষের বাড়ি-ঘরে থাকে তেমনি এডিস অ্যালবোপিকটাস গ্রামাঞ্চলে তাকে। এই এডিস অ্যালবোপিকটাস যদি কোনও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কামড় দেয় তাহলে সেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। তাই গ্রামে যারা যাচ্ছে এরা গিয়ে সেখানে যে মশার কামড় খাচ্ছে তাতে করে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে।

বিজনেস আওয়ার/০৪ আগস্ট, ২০১৯/এ

উপরে