ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

ডেঙ্গু নিধন

উত্তরের ওষুধ ধার করে ব্যবহার হচ্ছে দক্ষিণে

২০১৯ আগস্ট ১০ ১৩:০৯:৫৮

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ৪০ হাজার লিটার ওষুধ ধার করে মশক নিধন কাজে ব্যবহার করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠায় নিজেদের ওষুধের পাশাপাশি এই ওষুধ ব্যবহার করছে তারা। তবে ডিএসসিসি’র কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের ওষুধের পুনঃপরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শতভাগ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের ভাণ্ডারে ৪০ হাজার লিটার মশার ওষুধ মজুদ রয়েছে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মশা নিবারণ দফতরে এই ওষুধ ড্রামভর্তি করে রাখা আছে। সেখান থেকে চাহিদার বিপরীতে সংগ্রহ করে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যবহার হচ্ছে।

ডিএনসিসি নোকন নামে একটি কৃষি ও কীটনাশক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওষুধ কিনছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ব্যবহার করছে নৌবাহিনীর মালিকানাধীন নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ওষুধ।

সম্প্রতি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ব্যবহৃত ওষুধের একটি অংশ অকার্যকর বলে একজন গবেষক দাবি করলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তখন উত্তর সিটিতে ব্যবহৃত নোকন নামের ওষুধ নিয়ে ব্যবহার শুরু করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। যদিও ডিএনসিসি’র ওষুধ নিয়েও মানহীনতার অভিযোগ রয়েছে।

দুই সিটির কর্মকর্তারা জানান, নাগরিকসহ বিভিন্ন মহল থেকে মশা নিধন কাজে ব্যবহৃত ওষুধ নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা ওষুধের পুনঃপরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ওষুধের গুণগতমান সন্তোষজনক আসে।

তারা আরও জানান, একজন গবেষকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় গবেষকের সেই দাবি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, বেশ কয়েকটি উপাদানের সংমিশ্রনে আমরা একটি ওষুধ ব্যবহার করি। তার মধ্যে একটি উপাদান নিয়ে একজন ব্যক্তি গবেষণা করেন।

ওই গবেষণায় একটি উপাদানে সমস্যা দেখা দেয়। বাকি দুটি উপাদানের কার্যকারিতা আছে। তবে ওই ওষুধটি আমাদের নিজস্ব ফিল্ড পরীক্ষা, প্ল্যান প্রোটেকশন উইংয়ের পরীক্ষা ও আইইডিসিআরের পরীক্ষায় কার্যকরিতা পাওয়া গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বলেন, কেউ কেউ আমাদের ওষুধ অকার্যকর বলেছেন। সে কারণে আমরা উত্তর সিটি থেকে ৪০ হাজার লিটার ওষুধ ধার করেছি। আমাদেরও কিন্তু এখনও ৪০ হাজার লিটার ওষুধ মজুদ রয়েছে।

এখন দুটিই ব্যবহার করছি। কেউ যাতে বলতে না পারে আমরা এখনও ‘অকার্যকর’ ওষুধ ব্যবহার করি। আমরা যে ওষুধ ব্যবহার করছি সেই ওষুধ পুনঃপরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১০ আগস্ট, ২০১৯/এ

উপরে