ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

পদ্মা সেতু

প্রকল্প মেয়াদের সাথে বাড়ছে ব্যয়

২০১৯ আগস্ট ১৯ ১১:৪৮:১৬

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদের সাথে বাড়ছে ব্যয়। এ দফায় ব্যয় বাড়তে পারে ১ হাজার কোটি টাকা। আর মেয়াদ বাড়ানো হবে এক না দুই বছর, তা পর্যালোচনা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মূল সেতুর কাজের গতি ভালো। তবে নদীশাসনের কাজের গতি খুবই মন্থর। তাই ঠিকাদারেরা প্রকল্পের মেয়াদ আরও অন্তত দুই বছর বাড়ানোর পক্ষে। তবে সরকার অবশ্য একবারে এক বছরের বেশি বাড়াতে চায় না।

জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৮১ শতাংশ। নদীশাসনের কাজ এগিয়েছে ৫৯ শতাংশ।

মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এই অগ্রগতি গত সাড়ে চার বছরের। কাজ শেষ করার সময়সীমা এ বছরের ডিসেম্বর। সে হিসাবে, বাকি ২৯ শতাংশ কাজ শেষ করতে হবে সাত মাসে, যা অসম্ভব।

মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। আর চীনেরই সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন করছে নদীশাসনের কাজ।

চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, গত বছর ডিসেম্বরেই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। পরে সময় এক বছর বাড়ানো হয়।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূল সেতু ও নদীশাসনের কাজের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে ঠিকাদার ও সেতু বিভাগের মধ্যে প্রতিনিয়তই চিঠি চালাচালি হচ্ছে।

চায়না মেজর ব্রিজ গত বছরের শেষের দিকে ২০২১ সালের জুনে মূল সেতুর কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা দেয়। তবে সেতু বিভাগ তা অনুমোদন করেনি। তারা গত মে মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়।

অন্যদিকে সিনো হাইড্রো করপোরেশন ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নদীশাসনের কাজ শেষ করার সময়সীমা দাবি করে। কর্তৃপক্ষ শর্ত সাপেক্ষে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ায়।

সাধারণত ঠিকাদারেরা প্রথমে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির দাবি করে। তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে যায়। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় পরিকল্পনা কমিশন।

এখন পর্যন্ত সময় ও ব্যয় কী পরিমাণ বাড়ানো হবে, এই আলোচনা সেতু বিভাগ পর্যন্তই আছে। পরিকল্পনা কমিশনে উঠবে ডিসেম্বরের আগে।

এদিকে প্রকল্পের মেয়াদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যয়ও। দুই দফা প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিমধ্যে বেশ কিছু খাতে ব্যয় বেড়ে গেছে। আরও নতুন ব্যয়ের খাত যুক্ত হয়েছে।

প্রকল্প সূত্র বলছে, বাজেটে ঠিকাদারের ভ্যাট ও আয়কর ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি পরামর্শকদের ভ্যাট ও কর বেড়েছে ১০ শতাংশ। দেশীয় পরামর্শকদের ভ্যাট ও কর বেড়েছে ২ শতাংশ। এই তিন খাতে ভ্যাট ও কর বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির পরিমাণ ৬৮৬ কোটি টাকা।

চুক্তির অতিরিক্ত কাজ করার দাবিতে ইতিমধ্যে মূল সেতু ও নদীশাসনের ঠিকাদার প্রায় ১৬০ কোটি টাকার বাড়তি বিল দাবি করেছে। সেটা আরও বাড়তে পারে। জাজিরা প্রান্তে ফেরিঘাট সরাতে ২০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।

প্রতি বছর বছর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেলে ঠিকাদারকে বাড়তি টাকা দিতে হয়। এ জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পে সাড়ে চার শ' কোটি টাকা ধরা আছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই টাকায় কুলাবে না।

মাঝনদীতে ১৪টি খুঁটির নিচে একটি করে পাইল বেশি বসানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে খুঁটি সমস্যার সমাধান এবং সেই অনুযায়ী নকশা সংশোধন করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও বাড়তি পাইলের খরচ আগে ধরা ছিল না।

প্রকল্পের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কয়েক শ' উপকরণ লাগবে। এখন পর্যন্ত কোনো উপকরণের দামে বড় পরিবর্তন হয়নি।

এর মধ্যে ভ্যাট–কর ও বাড়তি কাজের কারণে গত এক বছরেই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে। সময় যত যাবে নতুন নতুন ব্যয় যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে একনেকে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০১১ সালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি হয়ে যায়। ২০১৮ সালে বাড়তি যুক্ত হয় আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত মে পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নদীশাসনের কাজ হয়তো এক বছর বেশি লাগবে। ফলে নদীশাসন সম্পূর্ণ না করেও সেতু চালু করা সম্ভব।

বিজনেস আওয়ার/১৯ আগস্ট, ২০১৯/এ

উপরে