ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬


আগুনে বিনাশ শেষ সম্বল,স্বপ্নভঙ্গ মানুষের কান্না!

২০১৯ আগস্ট ২০ ১৮:০৪:৩০

আগুনের বহুমাত্রিক ব্যবহার জীবনকে করেছে আরো গতিশীল। সেই আগুন কোন কোন সময় ভয়ংকর দানবের মতো শেষ করে দেয় সব স্বপ্ন। আগুন চিনে না আপন-পর, ধনী বা গরীব। গত শুক্রবার ঢাকা মিরপুরের রূপনগর ঝিল পাড়া বস্তিতে অগ্নি'র লেলিহান শিখার ভীতিকর ধ্বংসযজ্ঞের তাণ্ডবলীলা নিমিষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল মানুষের ক্ষীণ স্বপ্নটুকু।

অনেকেই মনে করছেন, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের অভিব্যক্ত, স্বস্তিতে প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য অবৈধভাবে প্লাস্টিকের পাইপে করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ। গ্যাসের লিকেজ অথবা বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই হয়তো আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


বস্তিতে তিন হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে, যেখান থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা প্রতি মাসে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার ভাড়া ও চাঁদা উঠিয়ে থাকে। সেইসাথে মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন রকম অবৈধ ব্যবসা বস্তি কেন্দ্রিক সংঘটিত হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী সরকারদলীয় এক নেতাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের দলীয় কোন লোক বস্তি থেকে ভাড়া কিবা চাঁদা আদায় করে না, যারা আদায় করে তারা হচ্ছে হাইব্রিড আওয়ামী লীগার। অপরদিকে বস্তিবাসী স্পষ্ট করে বলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের লোকজনই ভাড়া আদায় করে থাকে।


শুধুই কি অগ্নি বিনাশ মিরপুরের ঝিলপাড়া বস্তি থেকে মুনাফা লুটে, দেশের সকল বস্তি থেকেই ভাড়া ও চাঁদা আদায় করে থাকেন স্থানীয় সরকার দলীয় রাজনীতি দ্বারা প্রভাবশালী লোকজন। ভাড়া ও চাঁদার উপার্জিত কোটি কোটি টাকা যায় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাসীনদের ব্যক্তিগত পকেটে।


মিরপুরের ঝিলপাড়া বস্তিতে সাধারণত শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের বসবাস। মিডিয়ায় এক মহিলা তার সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি তার বাড়ি থেকে এসেছেন বন্যায় সবকিছু হারিয়ে, এখানে এসে আগুন কেড়ে নিয়েছে তার শেষ সম্বল টুকু, তার আর কিছুই রইল না। এমনই অভিব্যক্তি, অভিপ্রায় আর অশ্রু সিগ্ধ মানুষের আর্তনাদের রোল পড়ে গিয়েছিল মিরপুরের ঝিলপাড়া বস্তিতে।


ঈদের কারণে মানুষ গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল তাই প্রাণহানি ঘটেনি, তবে মানুষের ক্ষতি হয়েছে সীমাহীন, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছু নেই। অনেককেই দেখা গেছে পোড়া কয়লার মধ্যে খুঁজছে তার শেষ সম্বল টুকু।


আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অগ্নি ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন তাদের অধিকাংশই দাবি করেছেন বস্তিবাসীদের এখানেই পুনর্বাসন করতে হবে।


সহায় সম্বল হারা চরম অসহায় মানুষগুলো সরকারের কাছে আকাঙ্ক্ষা করে আগুন লাগার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে স-স্থানে পুনর্বাসিত হয় জোর দাবি জানিয়েছেন। আগুনে বিনাশ হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে কার্যকরী ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিগোচর সাহায্য সহযোগিতা পাই সেটা এদেশের সকল শ্রেণীর মানুষ অতি দ্রুত দেখতে চাই।


লেখক : মো: সবুর মিয়া, বেসরকারি চাকরিজীবী

উপরে