ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬


যে কারণে ফিফটি উদযাপন করেননি আফিফ

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৪ ১২:০৬:৪৮

স্পোর্টস ডেস্ক : দলের বিপর্যয়ে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেন আফিফ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ফিফটির দেখাও পেলেন। অথচ ফিফটির পর উদযাপনই করলেন না তরুণ এ টাইগার ব্যাটসম্যান

বিনা উইকেটে ২৬ থেকে চোখের পলকে ২৯ রানে নেই ৪ উইকেটে। একটা সময় বাংলাদেশের স্কোর হয়ে গেল ৬ উইকেটে ৬০। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও হারের শঙ্কায় সাকিবরা। দলের এমন বিপর্যয়ে ব্যাটিংয়ে নামলেন আফিফ হোসেন।

মোসাদ্দেককে নিয়ে শুরু আফিফের লড়াই। ভয়ডরহীন ক্রিকেটে কী দুর্দান্ত ইনিংসই না খেললেন। চরম বিপর্যয়ে পরাজয়ের চোখ রাঙানি উপেক্ষা মনোবল শক্ত রেখে এমন ইনিংস যাঁরা খেলতে পারেন, তাঁরাই তো স্মৃতির পাতায় শক্ত জায়গা করে নেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি, সেটিও এল চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে। তবুও ফিফটি করার পর কোনো উদযাপন করেননি আফিফ। মোসাদ্দেক তাঁকে যখন জড়িয়ে ধরলেন, তিনি ডাগ আউটে সতীর্থদের ইঙ্গিত করলেন, পানির বোতল আনার।

ফিফটির পর কেন উদযাপন করেননি, সংবাদ সম্মেলনে আফিফ বলেন, যখন ফিফটি হয়েছে খেয়াল করিনি। তখন চিন্তায় ছিল ম্যাচ যেন শেষ করতে পারি। ভাবনা ছিল ম্যাচ শেষে একটা উদযাপন করব।

ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি, তার আগে আউট হয়ে গেছি। আউট হয়ে অবশ্য তাঁর দুঃখ নেই। বরং বহুদিনের একটা ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। সবারই ইচ্ছে থাকে এমন ইনিংস খেলে দেশকে জেতানোর। আমার সেই ইচ্ছাটা পূরণ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে তাঁর গত বছরই। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটা টি-টোয়েন্টি খেলেই আবার বাদ। তার আগে বিপিএলে আলো ছড়িয়েছেন। দুর্দান্ত খেলেছেন গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে।

দেশের ক্রিকেটে তিনি পরিচিত মুখ। সাবেক এ বিকেএসপির ছাত্র টপ অর্ডারে দ্যুতি ছড়িয়েছেন বিসিবির ইমার্জিং দলের হয়েও। কদিন আগে সুযোগ পেয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলার। কিন্তু অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাননি বিসিবির।

আফিফ সাধারণত ব্যাটিং করেন টপ অর্ডারে। কাল নেমেছেন আটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানকে জিজ্ঞেস করেছেন, আফিফ কেন আরও আগে নামেনি।

আফিফের অবশ্য এতে কোনো আপত্তি নেই। টিম ম্যানেজমেন্ট যেখানেই খেলাবে সেখানেই তিনি খেলতে রাজি, দল যেখানেই আমাকে ভালো মনে করবে সেখানেই ভালো করার চেষ্টা করব।

দলের বিপর্যয়ে যখন লড়ছিলেন, গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে ‘আফিফ-আফিফ’ স্লোগান। দর্শকেরা যেভাবে তাঁকে উৎসাহিত করেছে, খুলনায় বেড়ে ওঠা ১৯ বছর বয়সী এ তরুণ ব্যাটসম্যান তাতে ভীষণ অভিভূত, এ অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।

অনেক দিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি এবং এমন একটা ভালো ইনিংস খেলার সুযোগ পেয়েছি। দর্শকেরা অনেক খুশি, আমার কাছে এটা অনেক আনন্দের।

বিজনেস আওয়ার/১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এ

উপরে