ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬


জাবি উপাচার্যের অপসারণ চাইলেন ফখরুল

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৬:৩৬:৩৫

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরও অপসারণ চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমার কাছে একটি নতুন খবর আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘুষ চাওয়ার অপরাধে ছাত্রলীগের যে দুই শীর্ষ নেতাকে পদচ্যুত করা হয়েছে, এটাকে আবার নতুন নাম দিয়েছে তারা। কি দিয়েছে বলুনতো? ফেয়ার শেয়ার। ৫% - ১০% ঘুষ যে নেবে, এটা হলো ফেয়ার শেয়ার। এই ফেয়ার শেয়ারের মধ্যে আবার এখন ভাইস-চ্যান্সেলরের নাম চলে এসেছে। উনি নাকি ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত তার পদত্যাগ করা উচিত। না হয় তাকে অব্যাহতি দেয়া দরকার।

সবক্ষেত্রে দুর্নীতি চলছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বের করে দিয়ে তারা স্বীকার করেছেন যে দুর্নীতি চলছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, হাজার চেষ্টা করে থলের বিড়াল ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। কালো বিড়ালের মতো বের হয়ে আসছে এবং এগুলো এখন জনগণের কাছে পুরোপুরি চলে গেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্র ভর্তি করছে রাতের বেলায়। কোথায় আছে দুর্নীতিমুক্ত জায়গা? প্রতিটি জায়গায় পরীক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারালয় কোথাও যাওয়া যায় না।

ফখরুল বলেন, কালকে আমাদের পুলিশ কমিশনার ভালো ভালো কথা বলেছেন। তার একটা কথা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। যদি কেউ কোনো কাজ না করে এবং সেবার বিনিময়ে যদি কোনো অর্থ দাবি করে, তাহলে আমাদের জানাবেন, আমরাই গিয়ে সেখানে বসবো।

ফখরুল বলেন, যারা মিথ্যা বলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, জোর করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে থাকে, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। এটা অবৈধ সরকার, এই পার্লামেন্ট অবৈধ। সুতরাং অবিলম্বে পার্লামেন্ট বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে একটি নতুন নির্বাচন করতে হবে এবং সে নির্বাচনে নতুন সরকার নতুন পার্লামেন্ট গঠন হবে। আজকে এই হচ্ছে জনগণের দাবি।

খালেদা জিয়া জুলুমের শিকার মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হত্যার জন্যই খালেদা জিয়াকে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। যে মামলায় তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছে, সাজা দেয়া হয়েছে, এ রকম মামলায়ই আওয়ামী লীগের বহু নেতা জামিন নিয়ে বাইরে আছেন। অথচ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া যদি বের হয়ে আসেন, তাহলে জনগণকে সংগঠিত করে এই অপশাসন, অন্যায়-অত্যাচার, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, তা মোকাবিলা করার মতো
ক্ষমতা তাদের নেই বলেই তাঁকে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর এক লাখ মামলা দিয়েছে, যেসব মামলায় আসামি ২৬ লাখ। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে এ রকম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আজকে তারা সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ভিতটাকেই নষ্ট করছে।

ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না মন্তব্য করে বিএনপি অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজকে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। কিসের ভয়? ফ্যাসিবাদের ভয়। কথা বললেই তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, কথা বললেই মামলা হবে। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা যাঁরা আছেন, অধ্যাপক আছেন, কথা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যান, তারা আজকে কথা বলার কোনো সাহস করতে পারছেন না। কারণ তাঁদের কখন রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে তারা জানেন না।’

আসামের নাগরিক পঞ্জি ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘জনাব ওবায়দুল কাদের বলেছেন- আমরা ভারত সরকারকে বিশ্বাস করতে চাই। আমরা উদ্বিগ্ন। ধিক্কার জানাই এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকে, ধিক্কার জানাই এই মানসিকতাকে। আমার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যদি একবিন্দু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাংলার মানুষ কোনোদিন তা মেনে নেবে না। মুক্তিযুদ্ধ করেছে ১৯৭১ সালে। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দরকার হলে আমরা আরও বড় যুদ্ধে অবতীর্ণ হবো।’

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকেছে। একজনকেও তাদের দেশে ফেরাতে পারেননি। ভারত-চীন নাকি আমাদের বড় বন্ধু। তাহলে বিষয়টা কী হলো। এদিকে আসামে এনআরসি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ১৯ লাখ লোক বাদ দেয়া হয়েছে। আসামের মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা বলেছেন, এদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি মিজানুর রহমানের (বীরপ্রতীক) সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।

বিজনেস আওয়ার/১৬ সেপ্টেম্বর,২০১৯/ আরআই

উপরে