ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

জিজ্ঞাসাবাদে বললেন খালেদ

ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেতেন কে কে!

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৯ ১২:৪৩:২৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ইয়ংমেন্স ক্লাবে কোটি কোটি টাকার ক্যাসিনো সেটাপ, নারী-পুরুষ এনে সেগুলো পরিচালনাসহ নানা অবৈধ কাজ চলতো ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জানতো না?

আটকের পর র‍্যাব-৩ কার্যালয়ে নিয়ে খালেদ মাহমুদকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। ক্যাসিনো থেকে উপার্জনের টাকা কার কার কাছে যেত, সে নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাকে।

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মতিঝিলের ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়টি মতিঝিল থানা পুলিশ, মতিঝিল জোন, পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপি সদর দফতরের কর্মকর্তারা জানতেন বলে দাবি করেন খালেদ।

পুলিশের সঙ্গে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি তিনি। খালেদের ক্যাসিনোর বিষয়ে পুলিশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থা এবং রাজনীতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জানতেন। তাদের ম্যানেজ করে ক্যাসিনো চালাতেন।

জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন বলেন, তাকে আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা যাবে না।

তবে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। ঢাকায় অবৈধ কোনো ক্যাসিনো থাকতে দেবে না র‍্যাব। তাকে আজ দুপুরে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠাবে গুলশান থানা পুলিশ।

গ্রেফতারের সময় খালেদের বাড়ি থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা, ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, এছাড়া ডলারেরও বান্ডিল পাওয়া যায়। এছাড়া তার কাছ থেকে মোট ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। যার একটি লাইসেন্সবিহীন, অপর দুটি লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করে রাখা হয়েছিল।

এদিকে খালেদকে আটক ও ঢাকায় একের পর এক ক্যাসিনোর সন্ধানের সংবাদ দেখে অনেকেই হতবাক হন। প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন জেনেও কেন এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি? আর যদি না জেনে থাকেন তাহলে এটা তাদের চরম ব্যর্থতা।

বিজনেস আওয়ার/১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এ

উপরে