ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬


দুর্নীতিবাজ নেতাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নামছে দুদক

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ০৯:১৮:৫৩

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : দুর্নীতিবাজ নেতাদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে বের করতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি বির্ভিন্ন মাধ্যমে আসা নেতাদের অঢেল সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটির গোয়েন্দা ইউনিট।

এরই অংশ হিসেবে যেসব নেতা বছরের পর বছর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীম এবং কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে দুদক।

শুধু তা-ই নয়, সাবেক দুই মন্ত্রীর ব্যাপারে খোঁজ-খবরও নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং আরেকজনের বিরুদ্ধে জি কে শামীমের কাছ থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার টাকা বস্তায় বস্তায় নেয়ার অভিযোগ।

দুদক মনে করছে, দলের নাম ভাঙিয়ে বা পদ ব্যবহার করে যেসব নেতা অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, তাদের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। তারা দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের শত্রু।

এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দলের পদে থেকে যারা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামব। দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান হবে।

অবৈধ সম্পদ দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। আমরা দেখব যাদের টাকা বের হচ্ছে, সেই টাকা লিগ্যাল সোর্সে অর্জিত কি না। গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীমের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা তার অঢেল টাকার উৎস খতিয়ে দেখব।

শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের নিকেতনের অফিস থেকে এফডিআর হিসাবে রাখা ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার কাগজপত্র, ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে আটটি বৈধ অস্ত্র ও ২৩টি ব্যাংকের ৮৩টি চেক।

এর আগে বুধবার রাতে র‌্যাবের একটি টিম যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পদক খালিদ মাহমুদ ভূঁয়াকে ২৫ লাখ টাকা, অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলাসহ চারটি মামলা হয়েছে।

রিমান্ডে তিনি অনেকের নাম বলেছেন, যাদের পকেটে ক্যাসিনোর টাকা গেছে।ক্যাসিনোর শত শত কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারার সঙ্গে রাজনীতিবিদ ছাড়াও প্রশাসনের কোন স্তরের কারা জড়িত, তাদের বিষয়ে নানা মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অনুসন্ধানে দুদকের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অনুসন্ধান করতে পারবে।

শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যারা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একের পর এক তাদেরকে ধরা হচ্ছে। সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কেউ শাস্তির বাইরে যাবে না। অভিযোগের সত্যতা থাকলে যুবলীগ নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বা যারা দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দুদক কাজ করবে।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন চাওয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগের বিদায়ী দুই নেতা ও ক্যাসিনোর ঘটনায় রাজধানীর একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামও রয়েছে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের তালিকায়।

বিজনেস আওয়ার/২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এ

উপরে