ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬


আইপিও’র প্রথমদিনের অস্বাভাবিক উত্থানে লাগাম

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ১০:৪৪:৪১

রেজোয়ান আহমেদ : শেয়ারবাজারে ২ বছরের ব্যবধানে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসা কোম্পানিগুলোর লেনদেনের প্রথমদিনের অস্বাভাবিক উত্থান অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের ঝুঁকি কমেছে। একইসঙ্গে এই পতন সূচকের জন্যও ইতিবাচক। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এই অস্বাভাবিক উত্থান কমে এসেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে সেটা এখনো কাঙ্খিত মাত্রায় আসেনি।

দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির প্রথমদিনে অস্বাভাবিক উত্থান চিন্তার কারন হয়ে রয়েছে। এই উত্থানের ফলে আইপিওধারীরা লাভবান হলেও সেকেন্ডারিতে বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুণতে হয়। প্রথমদিনের অস্বাভাবিক উত্থান পরবর্তীতে পতনে রূপ নেওয়ায় যা হয়ে থাকে। এমনটি প্রায় সব কোম্পানির ক্ষেত্রে ঘটলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেই সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছিল না। এছাড়া নতুন কোম্পানিগুলো সূচকে উচ্চ দরে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে কমে যাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব কারনে লেনদেনের শুরুতেই সার্কিট ব্রেকার দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও কমিশনে আলোচনা হয়েছিল।

জানা গেছে, লেনদেন শুরু হওয়া মানেই কোন কোম্পানির ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচকে অন্তর্ভূক্ত হওয়া না। যোগ্যতার আলোকে প্রতি প্রান্তিকে ডিএসইর প্রধান সূচকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় নতুন কোম্পানিগুলোকে। এমতাবস্থায় একটি কোম্পানি যে দরে সূচকে অন্তর্ভূক্ত হয়, এরপরে দর বাড়লে সূচকে ইতিবাচক, আর কমলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে সূচকে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পরে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমতে দেখা যায়। কারন হিসাবে থাকে লেনদেনের শুরুতেই ওই কোম্পানির অস্বাভাবিক উত্থান। তাই শেয়ারবাজারে কোন কোম্পানি আসা মানেই সূচক বাড়বে এমনটি ধারনা করা ভুল।

ডিএসইর সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, একটি কোম্পানি ডিএসইএক্স সূচকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরে যদি শেয়ারের দাম কমে যায়, তাহলে ওই কোম্পানি সূচকে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ঠিক একইভাবে শেয়ারের দাম বাড়লে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি যে দাম নিয়ে অন্তর্ভূক্ত হয়, সে তুলনায় কমেছে নাকি বেড়েছে তা বিবেচনায় আসবে।

আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আহামেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, যেকোন কোম্পানির শুরুতে ইস্যু মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ দরে শেয়ার লেনদেন হয়। যা কাম্য নয় এবং অস্বাভাবিক লক্ষণ। তবে দেরিতে হলেও প্রথমদিনের অস্বাভাবিক উত্থান কমে আসা শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক। এতে আইপিওধারীরা কম লাভবান হলেও সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের ঝুকিঁ কমছে।

দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর প্রথমদিনে গড়ে দর বেড়েছিল ৫০৯ শতাংশ। যা ২০১৯ সালের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে নেমে এসেছে ২২২ শতাংশে। অর্থাৎ ২ বছরের ব্যবধানে অস্বাভাবিক উত্থান কমেছে ২৮৭ শতাংশ।

২০১৯ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর লেনদেনের প্রথমদিনের চিত্র-

কোম্পানির নাম

ইস্যু দর (টাকা)

প্রথম দিনের ক্লোজিং দর

বৃদ্ধির হার

বর্তমান দর

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ

১০

৪৪.৮০

৩৪৮%

২৫.৮০

সী পার্ল বীচ রিসোর্ট

১০

৩৬.৪০

২৬৪%

২৩.৯০

সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস

১০

২৫.১০

১৫১%

২৭.৪০

নিউ লাইন ক্লোথিংস

১০

১৯.৮০

৯৮%

১৭.৭০

জেনেক্স ইনফোসিস

১০

৫৬.৫০

৪৬৫%

৫৬.৭০

এসএস স্টিল

১০

৫০.১০

৪০১%

৩০.৭০

রানার অটোমোবাইলস

৬৭

৯৯.৮০

৩৩%

৭১.৪০

এসকোয়্যার নিট

৪০

৪৫.৯০

১৫%

৩১.৪০

গড় বৃদ্ধির হার

২২২%

২০১৭ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর লেনদেনের প্রথমদিনের চিত্র-

কোম্পানির নাম

ইস্যু দর (টাকা)

প্রথম দিনের ক্লোজিং দর

বৃদ্ধির হার

বর্তমান দর

নাহি অ্যালুমিনিয়াম

১০

৮১.৬০

৭১৬%

৪৭.৩০

ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড

১০

১১৪.২০

১০৪২%

২৪.৯০

বিবিএস কেবলস

১০

৯০.৩০

৮০৩%

৮৩.৬০

নূরানি ডাইং

১০

২০.৮০

১০৮%

১২২.১০

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

১০

৫৩.১০

৪৩২%

৩৫.২০

প্যাসিফিক ডেনিমস

১০

২৭

১৭০%

১২.৭০

আমরা নেটওয়ার্ক

৩৫

১৩৮.৪০

২৯৫%

৪৪.২০

গড় বৃদ্ধির হার

৫০৯%

বিজনেস আওয়ার/২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/আরএ

উপরে