ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬


নিজ কার্যালয়ে পাহারায় সম্রাট

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ১২:৫৪:৩৮

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ক্যাসিনো কাণ্ডে নাম এসেছে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের। গ্রেফতার হওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতার হওয়ার পর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট কাকরাইলের রাজমণি সিনেমা হলের সামনে ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজস্ব কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। ভবনের সামনে শতাধিক যুবকের পাহারা। এসব যুবকের সবাই যুবলীগের কর্মী।

জানা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো ছিল। এর মধ্যে ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চলতো সম্রাটের অধীনে। তবে সম্রাট নিজে সরাসরি ক্যাসিনো দেখাশোনা করতেন না। তাঁর ক্যাসিনো চালাতেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক ওরফে সাঈদ।

তাঁরাই এক বছর আগে পল্টনের প্রীতম–জামান টাওয়ারে ক্যাসিনো চালু করেন। পরে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাসিনোর দুই হোতা আবু কাওসার ও মমিনুল হক এখন বিদেশে রয়েছেন। সম্রাট বুধবার থেকে নিজের কার্যালয়েই অবস্থান করছেন।

সম্রাটের বক্তব্য জানতে গতকাল কয়েক দফা যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর নম্বরে ফোন করা হলে এক ব্যক্তি ফোন ধরে বলেন, তিনি বিশ্রামে আছেন। এরপর আর কেউ ফোন ধরেননি।

সম্রাটের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে গতকাল সাংবাদিকেরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে বলেন, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর নাম গণমাধ্যমে আসছে।

তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, যার নাম আপনারা বলছেন, সে ছাড়াও সরকারের অন্য কেউ যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ঢাকার ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ওই দিন মতিঝিলের ইয়ংমেনস, ওয়ান্ডারার্স, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ও বনানীর গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান হয়।

মতিঝিলে অভিযানের সময় ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদকে গুলশানের বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার রাতে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযান হয়।

কলাবাগানে অভিযানের আগে ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ধানমন্ডি ক্লাবের বার শুক্রবার সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

অনেক ক্লাবের কর্মকর্তারা বলছেন, ভয় দেখিয়ে ক্লাবের জায়গা দখল করে ক্যাসিনো করা হয়েছে। যুবলীগ নেতাদের এ কাজে সহযোগিতা করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশি পাহারায় রাতভর ক্যাসিনো চলেছে।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ সভায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ক্যাসিনো পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, জুয়া বা ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু ক্যাসিনো নয়, বিভিন্ন সেক্টরে এই অভিযান চলবে। সরকারের প্রভাব খাটিয়ে যারা অন্যায় কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস আওয়ার/২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এ

উপরে