sristymultimedia.com

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬


দুই সিটির মশা নিধন অভিযান ঝিমিয়ে পড়েছে

০৪:৩৫পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : রাজধানীতে এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি ডেঙ্গু পরিস্থিতি। কিন্তু এরইমধ্যে ঝিমিয়ে পড়েছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রম। এখন আর আগের মতো মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

একাজে মাঠে নিয়োজিত কর্মীদেরও তেমন দেখা যাচ্ছে না। নেই নতুন কোনও কর্মসূচি। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাতিল করা হলেও এরইমধ্যে সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে ডিএনসিসি।

অন্যদিকে, ডিএসসিসি তার কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল না করলেও কর্মীদের দুই দিনের পরিবর্তে একদিন বাতিল করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সারাদেশে ৩১৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছেন ৯১ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গুবিরোধী তৎপরতা দেখালে হবে না। বরং বছরব্যাপী এ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে না এলেও এডিশ মশা ও তার লার্ভা নিধন কাজ ঝিমিয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

সরকারি হিসাব মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯১ হাজার ১১৫ জন। এখনও এক হাজার ২৯৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এপর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই সিটির মশক নিধন কর্মীরা জানান, বর্তমানে আগের মতো মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। একনাগারে কয়েক মাস কাজ করায় তারা (কর্মীরা) এখন ক্লান্ত। অনেকে অসুস্থ্ হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ ছুটিও কাটাচ্ছেন। ফলে ঢিলেঢালে চলছে মশক নিধন কর্মসূচি।

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৩ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ডিএনসিসি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে। এদিকে ছুটি বাতিলের আদেশ বহাল রাখলেও মশক নিধন কর্মীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাদেরকে সপ্তাহে একদিন করে ছুটি দিচ্ছে ডিএসসিসি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে গত ২০ আগস্টের পর ডিএনসিসি এলাকায় দুই দফা ‘চিরুনি’ অভিযান নাম দিয়ে এডিস মশার লার্ভা নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএসসিসিও তার প্রতিটি ওয়ার্ডে এডিসের লার্ভা নিধন অভিযান ও ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করে। এতে জেল জরিমানাসহ বিভিন্ন বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হয়। ডিএসসিসির সেই অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

গত ২২ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) পর্যন্ত সংস্থাটি দুই লাখ ৫ হাজার ৫৮৩টি বাড়ি পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৮৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৪ হাজার ৭৪৫টি নির্মাণাধীন বাড়ি পরিদর্শন করা হয়।

এর মধ্যে ২০৭টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। এই অভিযানে ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ডিএসসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মুস্তাফিজুর রহমানের সই করা এক পত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে, ডিএনসিসির দুই দফা অভিযানের মধ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফার এক লাখ ৬ হাজার ৯৮২টি বাড়িতে পরিদর্শন করে এক হাজার ৮৯৩টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।

এই অভিযানে ৫৮ হাজার ১৫টি বাড়িতে লার্ভা উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। অপরদিকে দ্বিতীয় দফায় ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এক লাখ ৩০ হাজার ৪৮৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৮৪টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা খুঁজে পায়।

এই অভিযানে ৭৫ হাজার ৩০৪টি বাড়িতে লার্ভা উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। সংস্থাটির জনসংযোগ দফতর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসির দ্বিতীয় দফার এই অভিযান শেষে সংস্থাটি তাদের সব জনবল নিয়ে ফুটপাত,সড়কসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে বর্তমানে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান তাদের নেই বললেই চলে।

দুই সিটির তুলনায় উত্তর সিটিতে এডিসের লার্ভা ও লার্ভা উপযোগী পরিবেশ বেশি পাওয়া গেলেও সংস্থাটির কার্যক্রম বর্তমানে ঝিমিয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, আমাদের আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কার্যক্রম থেমে নেই। আগামী সপ্তাহ থেকে আবারও জোরালোভাবে আরও একটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে শুক্র ও শনিবারসহ আমাদের সরকারি ছুটি বাতিল করে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, আমরা এখনও সেটি অনুসরণ করছি। আমাদের কর্মীরা ছুটির দিনেও কাজ করে।

কারণ, এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে একনাগারে ডিউটি করার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজন কর্মী মারাও গেছেন। সে কারণে কর্মীরা চাইলে তাদেরকে সপ্তাহে একদিন ছুটি দিচ্ছি। তবে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অফিস করছেন। তাদের ছুটি বাতিল করা হয়নি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সেল কাজ করবে। মন্ত্রণালয় থেকে এখনও জনবল পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই কর্মসূচি আরও বাড়ানো হবে।

বিজনেস আওয়ার/১৩ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে