sristymultimedia.com

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬


'আমার সন্তান র‌্যাগিংয়ের শিকার'

০৯:৫৪এএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার এজাহার ভুক্ত আসামি এএসএম নাজমুস সাদাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার কড়ই উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের ছেলে সাদাত। বাবা হাফিজুর রহমান রাজশাহী হাজী মোহাম্মদ মোহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মা সাদিয়া বেগম একজন গৃহিনী।

দুই ভাইয়ের মধ্যে সাদাত সবার বড়। চাকরি সূত্রে ২০০০ সাল থেকে রাজশাহী মহানগরের হেলেনাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তারা।

জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই প্রচণ্ড মেধাবী সাদাত ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তিসহ ২০১৫ সালে রাজশাহী গর্ভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে গোল্ডেন প্লাসসহ রাজশাহী বোর্ডে ৩য় স্থান অর্জন করে।

সবশেষ ২০১৭ সালে রাজশাহী কলেজে থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএসহ রাজশাহী বোর্ডে ৪র্থ স্থান অর্জন করে পরিবারসহ স্থানীয়দের অবাক করে দেয়। এরপর ঢাবি, রাবি, বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট এ ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত বুয়েটকেই বেছে নেন তিনি।

সাদাতের চাচা ওবাইদুর রহমান বলেন, ভাতিজা গ্রেফতারের খবরটি আমরা শুনেছি। যদি সে অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তার বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের বিশ্বাস সে পরিস্থিতির শিকার, সে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে নির্দোষ হিসেবে ফিরে আসবে।

সাদাতের বিষয়ে কড়ই উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মাবুদ, মোফাজ্জল হোসেন, মমতাজ উদ্দীন, ফাতেমা ও সামছুন্নাহার বেগম জানান, ছোট বেলা থেকেই প্রচন্ড মেধার অধিকারী নাজমুস সাদাত।

সহজ-সরল প্রকৃতির এই ছেলেটা ছুটিতে বাড়িতে এসে গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সাথে এখনো শিশুদের মতো পুকুরে সাঁতার কাটে। সেই ছেলে কিভাবে তার সহকর্মীকে হত্যা করতে পারে- এটা আমরা মেনে নিতেই পারছি না।

এ ব্যাপারে সাদাতের বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, সাদাত র‌্যাগিংয়ের শিকার। তাকে ওই রাতে আবরারকে ডেকে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আমি নিশ্চিত আমার সন্তান কখনোই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। তবে দোষ প্রমাণিত হলে কিছুই বলার নেই।

বিজনেস আওয়ার/১৬ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে