sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


ইলিশের প্রতিদানে পানির কারিশমা ও পেঁয়াজের তীব্র ঝাঁজ!

১১:৫১এএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

ইলিশের অভয়ারণ্য বাংলাদেশ, স্বাদে-গন্ধে ঐতিহ্যের পরিচয় ইলিশ। আমাদের ইলিশের গুডউইল সমগ্র বিশ্বময়। পুজাই বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী-বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতকে উপহার হিসেবে দিল ইলিশ, এখানেই কি শেষ? শেষ নয়, সঙ্গে গেল ফেনী নদীর পানি। ইলিশ তারা পেল এতে তাদের প্রমাণ করে ধর্মীয় উৎসবে সম্প্রীতির অটুট বন্ধনের অংশীদার বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ফিরে পেল পদ্মার হারানো যৌবন, তবে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌবন যার জন্য প্রতীক্ষিত ছিলনা বাংলাদেশ! ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান বৃষ্টি ও বন্যার পানি তাদের একক নিয়ন্ত্রিত ফারাক্কার বাঁধের সমস্ত গেট খুলে দিয়ে প্রায় ডুবুডুবু অবস্থায় নিমজ্জিত করল রাজশাহী অঞ্চল। আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রর নিকট থেকে এমন প্রতিদান কখনো কল্পনা করাও কঠিন।

নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য আমাদের সমবেদনা আছে কারণ তাদের দেশের মানুষ বন্যায় আক্রান্ত, অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয় শুষ্ক মৌসুমে ইন্ডিয়া পানি দিয়ে আমাদের সহায়তা করার নজীর ইতিহাসে বিরল।

পেঁয়াজ খেকো জাতি হিসেবে বাঙালি জাতির একটা পরিচয় আছে। সেই পেঁয়াজ আজ আদর ও কদরের বস্তু হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, স্বয়ং বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমার রাধুনীদের আমি নিষেধ করেছি তরকারিতে পিয়াজ না দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশের ইতিহাসের পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম চরম বিস্মিত করেছে দেশবাসীকে।

কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, এছাড়াও যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ আশা বেধেছিল এবার হয়তো তিস্তা চুক্তি হবে কিন্তু হলো তার সম্পূর্ণ উল্টো। বাংলাদেশ অনেকটা ইতিবাচক ভাবেই ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে।

ভারতকে আমরা কি শুধু দিতেই থাকব, আর কত নিতে চায়? ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ফেনী নদী থেকে পানি নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম শহরের পানির চাহিদা পূরণ করবে। চুক্তির ভিতরে সুপ্ত অবস্থায় ভারতের কোন ভয়ানক স্বার্থ জড়িত আছে কিনা বাংলাদেশকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে!

লেখক- মোঃ সবুর মিয়া, বেসরকারী চাকরিজীবী।

বিজনেস আওয়ার/১৬ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে