sristymultimedia.com

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬


'সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজীব গ্রেফতার'

০৮:১৪এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসির) কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১ এর সিও লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

শনিবার দিবাগত রাতে বসুন্ধরায় রাজীবের বন্ধুর বাসায় অভিযান শেষে তিনি বলেন, আমরা জানতে পারি, রাজীব বসুন্ধরায় তার বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করে আছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো- সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্ব। অভিযানে এই বাসা থেকে ৭টি বিদেশি মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

রাজীব এই বাসায় কত দিন ধরে আত্মগোপন ছিলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের জানামতে সে ১৩ অক্টোবর থেকে এই বাসায় আত্মগোপনে আছে। তার বন্ধুকে আমরা পাইনি, সে বিদেশে রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা ও দখলদারিত্বের কি কি অভিযোগ রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মাত্র এখানে অভিযান শেষ করেছি। বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখছি।

এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৪০৪ নম্বর বাসা থেকে আটক করা হয়।

বোরবার ভোর রাতে রাজীবের শিয়া মসজিদের সংলগ্ন মোহাম্মদীয়া হাইজিং সোসাইটির বাসায় এবং তার কার্যালয়ে অভিযান শেষে সাংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

সারওয়ার আলম জানান, গভীর রাতে তাকে নিয়েই তার বাসায় অভিযান চালিয়ে সেখানে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে রাজীবের এক আত্মীয়ের জমা দেওয়া একটি চেক উদ্ধার করা গেছে। সেই চেক দিয়ে একটি ব্যাংকে ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিলো।

র‌্যাবের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, তার বৈধ আয়ের কোন প্রমাণ আমরা পায়নি। তার রাজকীয় বাড়ি-গাড়ি আমাদের কাছে জ্ঞাত বহির্ভূত আয় বলে মনে হয়েছে।

র‌্যাব জানান, বাসার পর কাউন্সিলর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেখানেও কিছুই পায়নি র‌্যাব। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার বাড়ি এবং কার্যালয় থেকে আগেই জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রাজীবকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, এলাকায় মাস্তানি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নিজস্ব লোক দিয়ে ট্রাক-লেগুনা স্ট্যান্ড ও অটোরিকশা থেকে চাঁদা নেওয়ার সঙ্গে কাউন্সিলর রাজীব জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে প্রকাশ্যে তাকে খুব একটা বেশি দেখা যায়নি। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

জানা গেছে, কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব নিজের এলাকায় রাজত্ব গড়ে তুলেছেন। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ আর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত করেছেন তার সাম্রাজ্য।

২০১৫ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই রাজীবের রাজনৈতিক জীবন শুরু। অল্পদিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন তিনি।

থানা আওয়ামী লীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করায় বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতাকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে উল্টো তিনিই হয়ে যান ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজিব।

বিগত ৪ বছরে ৮-১০টির বেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনেছেন। যার মধ্যে মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮, বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার রয়েছে।

গুলশান ও মোহাম্মদপুরে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে রাজীবের। কমিশনার হওয়ার পরপরই তিনি বাহিনী দিয়ে প্রচারণায় বনে যান স্বঘোষিত ‘জনতার কমিশনার’।

তবে কথিত এই ‘জনতার কমিশনার’ এর বিরুদ্ধে জনতার কাছ থেকেই মাসে কোটি টাকা চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড, ফুটপাতই তার চাঁদা তোলার মূল উৎস।

রাজীব মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নং রোডে পানির পাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বাড়ি বানিয়েছেন। বাড়ির জায়গাটির দামই প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। তার ইশারাতেই রহিম ব্যাপারী ঘাটের ৩৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের অফিসটিও দখল করার অভিযোগ রয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/২০ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে