sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


মেননও পেতেন ক্যাসিনোর টাকা!

০৮:৩৯এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাছ থেকে প্রতি মাসে ক্যাসিনোর টাকা চাঁদা নিতেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন সম্রাট।

র‍্যাব সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া পরিচালিত ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেতেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তাকে প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা করে দিতেন সম্রাট আর খালেদ।

সবশেষ এই টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে না দেওয়ায় গালাগালিও করেছেন তিনি। সম্রাটের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১০ দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে র‌্যাবকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সম্রাট।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী থেকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে যুবলীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন রাশেদ খান মেনন। খালেদকে আরও বড় পদ-পদবি দেয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে তদবির করেন।

মেননের আশ্রয় পেয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন খালেদ। রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে খালেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে উন্নয়ন কাজ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপুল অংকের টাকা লেনদেন হয়। খালেদের মাধ্যমে এই টাকার একটি বড় অংশ চলে যেত রাশেদ খান মেননের পকেটে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকাকালেও মেননের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। ভিকারুননিসা নূন ও আইডিয়াল কলেজে ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন রাশেদ খান মেনন ও তার সহযোগীরা।

মেননের বিরুদ্ধে অনেক অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দেন। কিন্তু শেষমেশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

২৮ সেপ্টেম্বর ইয়ংম্যানস ক্লাবে অভিযান চালানোর সময় ক্যাসিনো থেকে আর্থিক সুবিধাভোগীদের নামের একটি লম্বা লিস্ট উদ্ধার করে র‌্যাব। এ তালিকার ৫ নম্বরে নাম আছে রাশেদ খান মেননের। তার নামের পাশে লেখা আছে ১০ লাখ। অর্থাৎ ক্যাসিনো থেকে মাসে রাশেদ খান মেনন ১০ লাখ টাকা পেতেন।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেননের নাম উঠে আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

এসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ক্যাসিনোর সঙ্গে যারাই জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকেই আইনের মুখোমুখি করা হবে। সেক্ষেত্রে কে বাম নেতা বা কে ডানপন্থী নেতা তা আমাদের বিবেচ্য নয়।

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট।

পরে ৭ আগস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করে র‌্যাব। সবশেষ মঙ্গলবার সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র ও মাদক মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত।

ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযানটি চালানো হয় ফকিরাপুরের ইয়ংমেনস ক্লাবে। ক্লাবটির চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

এদিকে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন রাশেদ খান মেনন এমপি। তিনি বারবারই গণমাধ্যমে বলছেন, ক্লাব পরিচালনা ও ক্যাসিনোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, চেয়ারম্যান পদটি আলংকারিক, দায়িত্বের না।

বিজনেস আওয়ার/২০ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে