sristymultimedia.com

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

পুলিশের মামলা, আসামি ৫ হাজার

ভোলায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

১২:৩১পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (ভোলা): ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের মিছিল, সভা ও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

শহরের প্রবেশমুখগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তারা। ফেসবুকে ভুয়া পোস্ট দেয়া নিয়ে গতকাল রোববার বোরহান উদ্দিন উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়।

ঘটনার জেরে সোমবার থেকে ভোলা শহরে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সভা-সমাবেশ ডাকা হয়। এ অবস্হায় আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে জেলায় সব ধরনের সভা, মিছিল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জেলার শান্তিশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, কোস্টগার্ডের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে চার প্লাটুন বিজিবি। এদিকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছে সমাবেশকারীরা।

এদিকে সংঘর্ষে চারজন নিহতের প্রতিবাদে মুসলিম ঐক্য পরিষদের ডাকা সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় তারা সমাবেশ করছেন না।

এদিকে, বেলা ১১টা থেকে অবস্থান নিয়েছে ‘সর্বদলীয় ইসলামী ঐক্য পরিষদ’র নেতারা। তারা প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সংগঠনের অন্যতম নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান জানান, পুলিশের বাধার কারণে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে না পারায় তারা ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় মুসলিম ঐক্য পরিষদকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবিদ হোসেন এ মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে তৌহিদি জনতার ব্যানারে রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়।

তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার মধ্যেই সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হলে পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হয়।

এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসী। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ দেড়শতাধিক মানুষ আহত হন।

বিজনেস আওয়ার/২১ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে