sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


৭ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ

০৮:২৯এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্কঃ নিজের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশকে ডাকতে বরাবরই অনীহা ভারতের। এই প্রথমবার তারা মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ডেকেছে। এর আগে ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে টেস্ট এবং ওয়ানডে খেললেও কখনো টি-২০ খেলেনি। এর আগে ভারতীয়দের বিপক্ষে সীমিত ফরম্যাটে জিততেও পারেনি টাইগাররা। নবম বারের দেখায় শেষ পর্যন্ত জয় পেল বাংলাদেশ।

ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

টস জিতে মাহমুদ উল্লাহ যখন বোলিং নিলেন, তখনই প্রেসবক্সে বিস্ময়ের গুঞ্জন! এ কী করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক? দিল্লির আকাশ থেকে কাল ফিরে গেছে ৩২টা বিমান, ঘন কুয়াশার ঘোলা আকাশে রাতের বেলা বল দেখা কঠিন। তার ওপর ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ানরা যদি বড় ইনিংস খেলে দেন তাহলে টি-টোয়েন্টির রোমাঞ্চ তো দেড় ঘণ্টাতেই শেষ! তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আগে ব্যাট করা ভারতীয় দলকে ২০ ওভার শেষে ১৪৮ রানেই আটকে দেয় বাংলাদেশ। শিখর ধাওয়ানের ৬৮ আর ঋষভ পান্টের ৩৮ রানই উল্লেখযোগ্য। সঙ্গে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা ওয়াশিংটন সুন্দর দুটো ছয়ের মারে ৫ বলে করে গেলেন ১৪ রান। ২০ ওভারে জয়ের জন্য চাই ১৪৯ রান। টি-টোয়েন্টির হিসাবে হয়তো খুব বেশি নয়, তবে দিল্লির এই মাঠে আইপিএল ম্যাচের গড় ইনিংস রান হিসাব করলে চ্যালেঞ্জিংই।

লিটন কুমার দাসকে টি-টোয়েন্টি দলে করা হয়েছে সহ-অধিনায়ক। ফেরার পথটা তিনিই দেখান, ৫ রান করে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুলের হাতে। এরপর অভিষিক্ত নাইম শেখের সঙ্গে সৌম্য সরকারের দ্বিতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটিটা বেশ একটা আস্থার শুরু এনে দেয়। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বেশ কিছু উইকেট না হারিয়ে ফেলাই কাজের। নাইম ও সৌম্য সেই কাজটিই করে দেন। ২৬ রানে নাইমের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামা মুশফিক তৃতীয় উইকেটে সৌম্যকে নিয়ে গড়েন ৬০ রানের মূল্যবান জুটি। ম্যাচের পর মুশফিক বারবার বলছিলেন একটা কথাই, তাঁরা দুজনই চেয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত থাকতে। শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ রান করা সৌম্যের বিদায়ে আসেন মাহমুদ। তাঁর সঙ্গে মুশফিকের বোঝাপড়াটা মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে পারিবারিক পর্যায়ে! অভ্যস্তভঙ্গিতে সিঙ্গেলস ডাবলস নিয়ে খেলে বাজে বলের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করেছেন দুজনই। অবশেষে তাঁদেরই হাত ধরে হারের দুষ্টচক্র ভাঙে দিল্লিতে। মুশফিক আর মাহমুদ যেন শাপমোচন করলেন ২০১৬-র বেঙ্গালুরুর। সেইবার ছয় মেরে জয় ছিনিয়ে আনার নেশায় দুজনই উইকেট বিলিয়ে দেন, বাংলাদেশ হারে অবিশ্বাস্যভাবে। এবার সেই দিনের শেষ ওভার করা হার্দিক পাণ্ডের ভাই ক্রুনাল পাণ্ডে মিড উইকেটে ছাড়লেন মুশফিকের ক্যাচ, বোলার ছিলেন যুজবেন্দ চাহাল। ওখানেই যে পালটে গেল ম্যাচের রং। ঘরপোড়া গরু অবশ্য সিঁদুরে মেঘেই ডরায়, তাই একেবারে শেষের আগে মুশফিক-মাহমুদরা কোনো রকম আবেগের উচ্ছ্বাস দেখাননি। ১৯তম ওভারটা করতে এসেছিলেন খলিল আহমেদ। তাঁর ওভারের শেষ ৪ বলে টানা চারটে বাউন্ডারিতেই দূর হয়ে যায় টেনশনটা। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে দরকার মাত্র ৪ রান। অবশ্য বেঙ্গালুরুর কথা মনে পড়লে ভয় কাটে না! সেটা কাটিয়ে দেন শিভাম দুবে। কালই অভিষেক হয়েছে এই অলরাউন্ডারের। ব্যাট হাতে করেছেন ১, শেষ ওভারটায় বল তাঁর হাতে দিয়ে একটা জুয়াই খেলতে চেয়েছিলেন হয়তো রোহিত শর্মা। তিনি প্রথম বলটা ডট করে খানিকটা উত্তেজনা বাড়ালেও তৃতীয় বলে লেগস্টাম্পের বাইরে ওয়াইড দিয়ে খেলায় নিয়ে আসেন সমতা। পরের বলটাতেই মাহমুদের ডিপ উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারা ছক্কাতেই আসে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়। যেটা আসতে পারত ২০১৬-র বেঙ্গালুরুতে, ২০১৮-র কলম্বোতেও। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারানোর পর কালই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ।

বিজনেস আওয়ার/৪ নভেম্বর, ২০১৯/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে