sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


জন্মদিনে হাসপাতালের বিছানায় এন্ড্রু কিশোর

১২:৩৭পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯

বিনোদন প্রতিবেদকঃ বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরের জাদুতে সংগীতপ্রেমীদের মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। কন্ঠে তুলেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ সব অনুভূতির গানই তার কণ্ঠে পেয়েছে অনন্য মাত্রা। তার শত শত গান এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

আজ সোমবার এই কালজয়ী সংগীতশিল্পীর জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেখতে দেখতে জীবনের ৬৩ বসন্ত পার করে দিয়েছেন। এখনও যেন চির নতুন, দরাজ কন্ঠে গান তুললেই যেন চারিদিক মাতোয়ারা হয়ে যায়।

জন্মদিনে ভক্ত অনুরাগীদের ভালোবাসা মাখা শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই কিংবদন্তি গায়ক। তবে সবার মন খারাপ। প্রিয় শিল্পী তার জন্মদিনে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। বন্ধু স্বজনহীন সুস্থতার অপেক্ষায় কাটছে তার দিন। ক্যান্সারে আক্রান্ত এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসা চলছে সুদূর সিঙ্গাপুরে।

দেশটির জেনারেল হাসপাতালে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর তার বায়োপসি করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে ১৮টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। চিকিৎসা ও কেমোথেরাপি শেষ করে আবারও গানের ভূবনে ফিরে আসবেন এন্ড্রু কিশোর এটাই প্রত্যাশা সবার। শক্ত মনোবলের মানুষ এই শিল্পীও জীবনটাকে নতুন করে শুরু করতে চান। জন্মদিনে তাই দেশবাসীর দোয়া চাইলেন তিনি।

বাংলা গানের কিংবদন্তি এই সঙ্গীতশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তাকে বলা যেতে পারে এক মহাসমুদ্র। কয়েক দশক ধরে সেই সমুদ্রে সাঁতার কেটে চলেছেন শ্রোতারা।

‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো’ বা ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’ এ ধরনের অসংখ্যা শ্রোতাপ্রিয় গান রয়েছে তার।

এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে সংগীতের পাঠ শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধকসহ প্রায় সব ধারার গানে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন। তার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে।

তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধারাক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

এন্ড্রু কিশোর একজন ব্যবসায়ীও। ১৯৮৭ সালে তিনি বরাবর আহমাদ ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন বুলু, ডলি জহুর, দিদারুল আলম বাদল, শামসুল ইসলাম নান্টু সাথে টিভি নাটক, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য প্রযোজনার জন্য ‘প্রবাহ’ নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তার দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম সঙ্গ্গা আর দ্বিতীয় জনের নাম সপ্তক।

কিশোরের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছুঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে।

বিজনেস আওয়ার/৪ নভেম্বর, ২০১৯/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে