sristymultimedia.com

ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের জন্মদিন কাল

০৭:০৬পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিটিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদের জন্মদিন আগামীকাল ৫ নভেম্বর। রাজু আহমেদ ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার খেতেরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

রাজু আহমেদ একজন আপাদমস্তক সাংবাদিক। সাংবাদিকতাই তার ধ্যান-জ্ঞান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় রাজু আহমেদ ২০০০ সালে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। শুরুতে সাপ্তাহিক একতা এবং প্রায় একই সময়ে সাপ্তাহিক খবরের কাগজ, সাপ্তাহিক ২০০০ এবং পাক্ষিক ক্রীড়া জগৎ পত্রিকায় প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি দৈনিক ভোরের কাগজ এবং ইত্তেফাকের অর্থনীতি পাতায় নিয়মিত লেখক ছিলেন। ২০০৩ সালে দৈনিক আজকের কাগজে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে সর্ব্বোচ ডিগ্রি অর্জন করেও অন্য কোনো চাকরির চেষ্টা না করে সাংবাদিকতাকে স্থায়ী পেশা হিসেবে বেছে নেন। ২০০৭ সালে আজকের কাগজ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি প্রথমে দৈনিক জনকণ্ঠ ও পরে বৈশাখী টৈলিভিশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে দৈনিক সংবাদপত্র নামে একটি নতুন দৈনিকের প্রস্তুতিপর্বে তিনি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। পত্রিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় সেখান থেকে দৈনিক শেয়ারবিজ নামে পুঁজিবাজার ও অর্থনীতিভিত্তিক একটি পত্রিকায় যোগ দেন এবং পত্রিকাটি বাজারে নিয়ে আসতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সেখান থেকে দৈনিক ভোরের ডাক হয়ে ২০০৯ সালে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে পুনরায় দৈনিক জনকণ্ঠে যোগদান করেন। ২০১২ সালে গাজী টেলিভিশনে সিনিয়র রিপোর্টার পদে যোগ দেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পদোন্নতির পাশাপাশি প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন।

রিপোর্টার হিসেবে তিনি ২০০৬ সালে প্যানোস সাউথ এশিয়া ফেলোশিপ, ২০০৭ সালে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড, ২০০৮ সালে এফপিএবি সাংবাদিকতা পুরস্কার, ২০১১ ও ২০১৮ সালে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’, ২০১১ সালে ইউএনএফপিএ-ডিজিএফপি জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড, ২০১১ ও ২০১৩ সালে সিএসএফ-ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ সালে ডিআরইউ-গ্রামীণফোন বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড, ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ডে আইএএস স্কলারশিপ, অ্যাকশনএইড-ইআরএফ ফেলোশিপ ২০১৮ এবং পরিবার পরিকেল্পনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ লাভ করেন।


বাবা মজিবুর রহমান (মজনু বেপারী) এবং মা নূরজাহান বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে রাজু আহমেদ চতুর্থ। বাবা মজনু বেপারী ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই রাজু আহমেদ মেধার সাক্ষর রাখেন। ১৯৮৯ সালে প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে মুন্সীগঞ্জের বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি সাংবাদিকতা এবং অর্থনীতি বিষয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজু আহমেদ সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কাজে নিয়োজিত আছেন। তার উলেখযোগ্য গবেষণা কাজের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দারিদ্র্য বিমোচন’,বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচি: প্রেক্ষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু’ বছর’, কৃষিতে রাষ্ট্রীয় নীতি ও কৃষি বাজেট: একটি পর্যালোচনা’, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল ও অঞ্চলভিত্তিক কৃষিজাত শিল্পের সম্ভাবনা’, যৌতুক, বিদেশ গমন ও সামাজিক সমস্যা’, হিল্লা বিয়ের সামাজিক প্রভাব’ ইত্যাদি।
তাঁর কয়েকটি গবেষণাপত্র নিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দারিদ্র্য বিমোচন’ বই প্রকাশিত হয়েছে।


স্কুল জীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে সাংগঠনিক দক্ষতরা পরিচয় দেন। তিনি বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট দলের সিনিয়র পেট্রোল লিডারের দায়িত্ব পালন করেন। এর অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সালের জাতীয় ও এশিয়া-প্যাসেফিক জাম্বুরিতে অংশ নেন। তিনি শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের লৌহজং উপজেলা সভাপতি ছিলেন।


মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান থিয়েটার গ্রুপ নাট্যবিন্দু’র সদস্য হিসেবে অনেকগুলো মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে বেশ কিছু টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন।


রাজু আহমেদ বিশ^বিদ্যালয় জীবনে প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।


২০০৫ সালে তিনি অন্তরা আহমেদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির অনন্ত আহমেদ ও অরণ্য আহমেদ নামে দুই ছেলে রয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/এন

উপরে