sristymultimedia.com

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬


লোকসান করেও লভ্যাংশ দেবে ৭ কোম্পানি

১২:০০পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

রেজোয়ান আহমেদ : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ব্যবসায় লোকসান সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৭ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগের বছরগুলোতে মুনাফা থেকে জমানো রিজার্ভ থেকে এই লভ্যাংশ দেওয়া হবে।

জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর সম্প্রতি আয়োজিত লভ্যাংশ সংক্রান্ত সভায় ৭ কোম্পানির পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের ব্যবসায় মুনাফা সত্ত্বেও ৭ কোম্পানির লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগকারীরা যেমন ধিক্কার জানিয়েছে, একইভাবে লোকসান করেও রিজার্ভ থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কোম্পানিগুলোর পর্ষদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের মতে, কোম্পানি তথা শেয়ারহোল্ডারদের জন্যই রিজার্ভ রাখা হয়। আর সেখান থেকে এবার ৭ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে পুরো শেয়ারবাজারের পাশে এসে দাড়িঁয়েছে।

আরও পড়ুন......

মুনাফা সত্ত্বেও লভ্যাংশ দেবে না ৭ কোম্পানি

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, কিছু কোম্পানি এ বছর লোকসান করেছে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রিজার্ভ সংরক্ষন করেছে। আর প্রয়োজনের তাগিদে সেখান থেকে কিছু কোম্পানির পর্ষদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।

খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের সচিব মিলন খান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের মন্দাবস্থার কারনে বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুণছে। এমতাবস্থায় শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের কথা ভেবে এবার পর্ষদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কিছুটা হলেও শেয়ারহোল্ডাররা উপকৃত হবে।

নিম্নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লোকসান সত্ত্বেও লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোর নাম, শেয়ারপ্রতি লোকসান ও লভ্যাংশের তথ্য তুলে ধরা হল-

জিকিউ বলপেন : আগের অর্থবছরেও কোম্পানিটির পর্ষদ লোকসান সত্ত্বেও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৫.১২ টাকা লোকসান হয়েছিল। এবারও লোকসান নিয়েই ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে ১১২ কোটি ৩২ লাখ টাকার রিজার্ভ রয়েছে।

খুলনা প্রিন্টিং : ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ঝামেলায় মাঝে উৎপাদন বন্ধ ছিল। তবে উৎপাদন শুরু হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মুনাফা করতে পারেনি। তবে আগের দুটি অর্থবছরে লোকসান করে লভ্যাংশ না দিলেও এবার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৭৩ কোটি টাকার ৪ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে ৩৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার রিজার্ভ রয়েছে।

মোজাফ্ফর হোসাইন : মেশিনারীজ অর্ধেক বন্ধ থাকার কারনে কোম্পানিটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লোকসানে পতিত হয়েছে। তবে কোম্পানিটির পর্ষদ লভ্যাংশ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বিমুখ করেনি। এবারও লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৯৯ কোটি টাকার ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে ৬৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার রিজার্ভ রয়েছে।

হাক্কানি পাল্প : ১৯ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটি কয়েক বছর ধরে লোকসান রয়েছে। তারপরেও আগের বছরের ন্যায় এবারও লোকসান নিয়ে লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার রিজার্ভ রয়েছে।

এটলাস বাংলাদেশ : রাষ্ট্রাধীন এ কোম্পানিটি ৪ অর্থবছর ধরে লোকসান রয়েছে। তবে কোম্পানিটির পর্ষদ কখনো লভ্যাংশ দেওয়া থেকে বিরতি দেয়নি। যদিও কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় এখনো কয়েকগুণ বেশি রিজার্ভ রয়েছে। বর্তমানে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে ৩৯৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

ইস্টার্ন কেবলস : রাষ্ট্রাধীন এ কোম্পানিটি আগের অর্থবছরেও লোকসান করে। তবে লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করেনি। এবারও কোম্পানিটির পর্ষদ লোকসান সত্ত্বেও লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে ৪৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।

ন্যাশনাল টিউবস : রাষ্ট্রাধীন এ কোম্পানিটি ৩ অর্থবছরে ধরে লোকসানে রয়েছে। তবে এবারও আগের বছরের ন্যায় লোকসান সত্ত্বেও কোম্পানিটির পর্ষদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে ৫২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বিজনেস আওয়ার/০৯ নভেম্বর, ২০১৯/আরএ

উপরে