sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


আ. লীগের এমপির 'হাতজোড়' ছবি ভাইরাল!

১২:৩৫পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সম্প্রতি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছেন তিনি।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম তার ফেসবুক পেজে ছবি আপলোড করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল হয়। ছবিটি গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের।

ছবিতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ প্রভাবশালী নেতারা বসে আছেন।

আর টেবিলের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছেন। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

আরেকটি ছবিতে ওমর ফারুক চৌধুরী হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকলেও আসাদকে চেয়ার পেছনে ঠেলে সরে যেতে দেখা যায়।

এদিকে গত শুক্রবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে থাকা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় ডেকে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন।

এরপর ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করে তা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে।
তবে এই দুই নেতার বিরোধ উস্কে দিতে রোববার সকালে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে।

শনিবার রাতে ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। তিনি ফারুক চৌধুরীরই অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারপর থেকে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ছবিটি পোস্ট করছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ছবি নিয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, যারা ছবিটা ফেসবুকে পোস্ট করছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন। তাদেরকেই জিজ্ঞেস করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, বৈঠকে ফারুক চৌধুরী ও আসাদ একে-অপরের বিরুদ্ধে কি বলেছেন, এ নিয়ে আলোচনা হয়। এরই এক পর্যায়ে ওমর ফারুক চৌধুরী উঠে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বলেন, অনেক হলো, এবার আমাকে মুক্তি দেন।

আমাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দেন। এই কমিটির চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, জামায়াত-বিএনপি'র পৃষ্ঠপোষক নেতারা যেভাবে আমাকে, আমার জন্মদাতা শহীদ পিতাকে নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও নোংরামি করছে, সেসব আমি আর সহ্য করতে পারছি না।

আমি আমার শহীদ পিতার সম্মান রক্ষা করতে চাই। আমি কোনো পদে না থেকেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের একজন সৈনিক হিসাবে কাজ করতে চাই।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।

বিজনেস আওয়ার/১১ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে