sristymultimedia.com

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


দর্শনায় ডাক্তার মশিউরের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নির্যাতনের অভিযোগ

১২:৫০পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

আমিনুর রহমান নয়ন (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ডাক্তার মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি হলেন দর্শনা পৌরশহরের পরানপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃজামিরুল ইসলাম। সে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী।

অভিযোগকারী জামিরুল এই বলেন, আমি গত দুই বছর যাবত ডাক্তার মশিউর রহমান এর চেম্বারে কাজ করি।আমার বেতনের টাকা থেকে প্রতি মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে ডাক্তার সাহেবের কাছে জমা রাখতাম। এই ভেবে যে, যদি কোন বিপদ আপদ আসে তাহলে ডাক্তারের কাছ থেকে তখন সেই টাকা নিয়ে কাজে লাগাবো।

আমি এমনিতেই গরীব,তার উপরে আমার একটি চোখ নষ্ট। অপর চোখে ও সমস্যা দেখা দেওয়ায় আমি ঢাকাতে চোখের ডাক্তার দেখানোর জন্য ডাক্তার মশিউর রহমানের কাছে পাওনা টাকা চাই।

এ সময় তিনি আমাকে বলেন, ঢাকায় যেয়ে অকারণে টাকা খরচ করে ডাক্তার দেখানোর দরকার নাই। আমি নিজেই তোমার চোখের চিকিৎসা করে দিচ্ছি। এই বলে তিনি আমার চোখের জন্য প্রেসক্রিপশন করে দেন।

কিন্তু তার প্রেসক্রিপশন মতো ওষুধ ব্যবহার করে, আমার চোখের সমস্যা তো কমেই না, বরং আরো বৃদ্ধি পাই। গত ৩১ অক্টোবর সকালে আমি তার চেম্বারে উপস্থিত হয়ে আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই। কিন্তু সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ বিষয়ে তার সাথে কিছু কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে চেম্বারের ভেতর থেকে ডাক্তারের ছেলে কাফি মিয়া বেরিয়ে এসে আমাকে চেপে ধরে এবং ডাক্তার তখন আমাকে বেধরকভাবে মারতে থাকেন।এক পর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এ সময় স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেন। ওই সময় ডাক্তার মশিউরের চেম্বারে দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুরের বিশারত আলীর মেয়ে মোছাঃ আসমা খাতুন কর্মরত ছিলেন।

জামিরুল অভিযোগ করে আরো বলেন, আমি তো তার কাছে কোন অন্যায়ভাবে টাকা চাইনি। আমার পাওনা টাকা আমাকে ফিরিয়ে দিবে, এটা নিয়ে কোন ঝামেলা হওয়ার কথা নেই। কিন্তু টাকা দেওয়া তো দূরের কথা আমাকে আরো উল্টো মারধর করলো।

আমাদের মতো অসহায় গরীব প্রতিবন্ধিদের কি দেখার কেউ নেই? আমি কি সঠিক বিচার পাবোনা? ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি, কি করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরে একজনের পরামর্শে আপনাদের দ্বারস্থ হলাম।

এ বিষয়ে ডাক্তার মশিউর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে এই বিষয়ে আনিত অভিযোগ সব মিথ্যা। আমি বা আমার ছেলে কাউকে নির্যাতন করিনি।

এদিকে এই ঘটনার পরেই বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টিফোর ডট কম পত্রিকার এই প্রতিবেদকের কাছে বিভিন্ন মহল থেকে একের পর এক ফোন আসে নিউজ না করার জন্য।

তারা যদি দোষী না হবে তাহলে নিউজ না করার জন্য এত অনুরোধ কেন? আর একজন চক্ষু চিকিৎসক না হওয়ার পরে ও চক্ষুর মতো একটা স্পর্শকাতর অঙ্গের চিকিৎসা তিনি কি দিতে পারেন?

বিষয়টি খতিয়ে দেখে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সংবাদকর্মীসহ সমাজপতিদের কাছে আকুতি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

বিজনেস আওয়ার/১৩ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

তিন বিভাগে পেট্রলপাম্প ধর্মঘট
তেল বিক্রি বন্ধ, অচল হয়ে যেতে পারে সড়কপথ

উপরে