sristymultimedia.com

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


সমাধানের পথে এগোচ্ছে বিটিআরসি-গ্রামীণফোন দ্বন্ধ

১২:২৩পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : পাওনা নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সৃষ্ট দ্বন্ধ সমাধানের পথে এগোচ্ছে। এলক্ষ্যে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বিটিআরসিকে ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছে। যদিও বিটিআরসি দাবিকৃত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এমন তথ্য জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই পরিমাণ টাকা পর্যায়ক্রমে বিটিআরসিকে দিতে সম্মতির কথা জানান তিনি।

এদিন শুনানি শেষে আগামী সোমবার (১৮ নভেম্বর) আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের বিচারপতির বেঞ্চ। এই প্রেক্ষাপটে গ্রামীণফোনকে কত টাকা বিটিআরসিকে দিতে হবে, তা সেদিন জানা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ গ্রামীণফোনের কাছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাবি করছে। কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোন তা অস্বীকার করছে। এ নিয়ে বিটিআরসি কয়েক ধাপে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি। আর উভয় পক্ষের এই দ্বন্ধে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীরা কয়েক হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন।

বিটিআরসি গত ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে চিঠি দেয়। এরমধ্যে বিটিআরসির পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা ৪ হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বিটিআরসির পাওনার মধ্যে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সুদের পরিমাণ রয়েছে ৬ হাজার ১৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এইসব পাওনা প্রদানে গ্রামীণফোনকে প্রথমবারের চিঠিতে ১০ কার্যদিবস সময় বেধে দেয় বিটিআরসি।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের গত ১ এপ্রিল প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ৪১৭ টাকা। আর ২ এপ্রিল থেকে বিটিআরসির সঙ্গে পাওনা নিয়ে দ্বন্ধ শুরু হওয়ার প্রায় সাড়ে ৭ মাসের মাথায় বা ১৩ নভেম্বর শেয়ারটির দর দাড়িঁয়েছে ৩১০.১০ টাকায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ১০৬.৯০ টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৩৫ কোটি ৩ লাখ শেয়ারের দাম কমেছে ১৪ হাজার ৪৩৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তবে সেই দ্বন্ধ সমাধানের পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। এতে শেয়ারটির দর ইতিবাচক হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর আদালত বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার মধ্যে গ্রামীণফোন এখন কত টাকা দিতে পারবে, তা জানতে চেয়েছিলেন। একইসঙ্গে গ্রামীণফোনের আইনজীবীদের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ নভেম্বর (আজ) পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস। গ্রামীণফোনের পক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও মো. মেহেদি হাসান চৌধুরী। আর বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

শুনানিতে গ্রামীণফোনের আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, অর্থমন্ত্রীসহ দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রতিনিধিদের নিয়ে গত ৩ অক্টোবরের বৈঠকে ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। শর্ত ছিল—গ্রামীণ ফোনের ওপর বিটিআরসির আরোপ করা প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে দেওয়ার। এই প্রস্তাব অনুসারে দুই কিস্তিতে গ্রামীণ ফোন ওই টাকা বিটিআরসিকে দিতে সম্মত হয়।

শুনানিতে মাহবুবে আলম বলেন, অন্তত পাওনার ৫০ ভাগ অর্থ গ্রামীণফোন জমা দিক। তারপর কমিটির মাধ্যমে বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের আরজি জানান। এ সময় আদালত বলেন, নমনীয় দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

বিটিআরসির পাওনা দাবি নিয়ে গ্রামীণ ফোন নিম্নআদালত একটি মামলা করে। পাওনা দাবির অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চায় গ্রামীণ ফোন। এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর হলে তারা হাইকোর্টে আপিল করে। ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ওই অর্থ দাবি আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আবেদন করে। যা চেম্বার বিচারপতির আদালত হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে।

বিজনেস আওয়ার/১৪ নভেম্বর, ২০১৯/আরএ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

বিদায়ী সপ্তাহে সব সূচকে পতন
ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৭’শ কোটি টাকা

উপরে