sristymultimedia.com

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার মাদক ব্যবসায়ীরা

১২:৪৩পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ইউনিয়ন এর রাঙ্গিয়ারপোতা ও আকন্দবাড়িয়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আগের থেকে এখন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদেরকে কোনভাবেই দমিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সীমান্ত জেলা হিসেবে খ্যাত চুয়াডাঙ্গার রাঙ্গিয়ারপোতা এবং আকন্দবাড়িয়া মাদকের স্পট হিসেবে অনেক আগেই সুনাম কুড়িয়েছে। এই সুনাম অর্জনের পিছনে অনেক ব্যক্তিই জড়িত। তাদের নাম ঠিকানা তুলে ধরা হবে সংবাদের মধ্যে।

কথায় আছে 'চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী' কথাটা মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য শতভাগ উপযোগী। সময়টা তাদের বেশ পক্ষে। কিছুদিন আগেও তাদের পক্ষে যা সম্ভব হচ্ছিলো না। এখন সেগুলো তারা নিমিষেই করতে পারছে।

এমন এক সময় ছিল যখন এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু সরকার মাদকের উপর জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসে।

স্থানীয় পুলিশের টানা মাদক বিরোধী অভিযানে উথলীর জোনাব আলী এবং আকন্দবাড়িয়ার পাপ্পু খোড়া বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর অনেক মাদক ব্যবসায়ীরাই এলাকা ছেড়ে দেয়। অঞ্চলটি অনেকটা মাদকমুক্ত হয়ে যায়।

কিন্তু বর্তমানে অনেকেই আবার এলাকায় ফিরে এসেছে এবং পূর্বে যতদিন ব্যবসা করতে পারেনি সেগুলো সুদে-আসলে একবারে আদায় করে নিচ্ছে। এমনকি প্রাইভেট কারে করে ফেনসিডিল ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে এমন জনশ্রুতিও রয়েছে।

তাই এলাকাবাসী মনে করে আবার যদি কিছু দিন একটানা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা যায় এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা যায় তাহলে মাদক ব্যবসা এখনো নির্মূল করা সম্ভব।

চুয়াডাঙ্গা সদরের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ীদের শীর্ষে রয়েছ- ইজাজুলের ছেলে মাহাবুর ও হাবিবুর, মৃত মজিদের ছেলে রহিদুল
কাসেদের ছেলে লিমন, সোনা মিয়া, নাজের ও বিশারত, আখেরের ছেলে হাববুল এবং জলিলের চেলে মানিক।

আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন- খলিলের ছেলে হাবিবুর মান্নানের ছেলে হালিম, মৃত কাঠুর ছেলে মান্নান, মৃত বিশারতের ছেলে মিন্টু ও শাজাহানের স্ত্রী নাজু খাতুন।

উল্লেখিত প্রত্যেকেই একাধিক মাদক মামলার আসামি। এ সমস্ত ব্যক্তি ছাড়াও আরো অনেক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের অনেকেই আবার বড় বড় বাড়ি ও গাড়ির মালিক হয়ে গিয়েছে।

এসব মাদক ব্যাবসায়ীদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনেকেই দায়িত্ব পালন করে। তাদের কথা মত যারা চলে তাদের মাদকব্যবস়ায় কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু কথা না শুনলেই অর্থাৎ তাদের সাথে লেনদেন না করলেই তাদের নামগুলো প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হপ্তা দেয়া মাদক ব্যাবসায়ীদের এমন কারো বাড়িতে যদি পুলিশ অভিযান চালায় তাহলে সাথে সাথে তারা সেই জায়গায় গিয়ে উপস্থিত হয় এবং প্রশাসনের কাছে নিজেদের বিভিন্ন পরিচয় তুলে ধরে প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে।

এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ধোয়া তুলসী পাতা প্রমাণের চেষ্টা করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়। এদের বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার। তাদের নামে ও একাধিক মাদক মামলা আছে বলে জানা গেছে।

রাঙ্গিয়ারপোতা এবং আকন্দবাড়িয়ার মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি অতি দ্রুত এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

বিজনেস আওয়ার/১৭ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

তিন বিভাগে পেট্রলপাম্প ধর্মঘট
তেল বিক্রি বন্ধ, অচল হয়ে যেতে পারে সড়কপথ

উপরে