sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বাবা অফিসে বসে সন্তানের নির্যাতনের দৃশ্য দেখছিলেন

১১:৩১এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন সরকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শিশুটির মা লুৎফুন্নাহার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান আবদুল্লাহ আবতাই আয়াত।

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করায় আয়াত থাকত বাসায় গৃহকর্মীর কাছে। কিছুদিন ধরেই সন্তানকে দেখে অস্বাভাবিক কিছু একটা আশঙ্কা হয়েছিল বাবার। যে কারণে তিনি বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। আইপি ক্যামেরায় ধারণ ফুটেজ তিনি নিজের স্মার্টফোনেই লাইভ দেখতে পারতেন। যে কারণে নিজের সন্তান চোখে চোখেই থাকত।

অবশেষে অফিসে বসে ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য চোখে পড়ল আল আমিনের। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে গৃহকর্মী দ্বারা সন্তানকে নির্যাতনের দৃশ্য! বাথরুম থেকে ঘরের ভেতর ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওইটুকু শিশুকে একের পর এক লাথি মারতে থাকে সেই গৃহকর্মী! অতঃপর ক্রন্দনরত শিশুকে সেভাবে ফেলে দিয়েই আবারও নিজের কাজে মন দেয় সে।

প্রযুক্তির কল্যাণে অফিসে বসে কলিজার টুকরা সন্তানের ওপর এই ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য দেখে চিৎকার করা ছাড়া বাবার তখন কীইবা করার ছিল আমিনের! এমন দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ছোটেন বাসার দিকে। গৃহকর্মীর হাত থেকে উদ্ধার করেন নিজের সন্তানকে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর ৭০ ধারায় একটি মামলা করেন আল আমিন। অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে আয়াতের বাবা আল আমিন সরকার বলেন, আমি একজন অসহায় বাবা, যাকে দেখতে হয়েছে ২ বছরের সন্তানকে বিভৎস্য মারের দৃশ্য! এ নির্যাতনের দৃশ্য দেখেও কিছু করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছি আমি। দেখা ছাড়া সে সময় কিছু করার ছিল না আমার!

বাসায় ফিরে আমার সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছি, কোলে তুলে নিয়েছি, অনেক আদর করেছি। কিন্তু অন্যদিনের মতো চিৎকার করে বাবা বাবা করে নাই। মার আর লাথির ভয়ে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে, বাবা বলতে যেন ভুলেই গিয়েছিল! আমি এ ঘটনার বিচার চাই। সেইসঙ্গে সব দম্পতিরা যেন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হন।

শিশুটির বাবা আল আমিন আরও বলেন, এতো বড় ঘটনার পরেও আমরা শাহিদাকে কিছুই বুঝতে দেইনি। পুলিশ আসার আগ পর‌্যন্ত সে জানতো না যে অপরাধ করেছে। তাকে বললে হয়তো সে পালিয়ে যেতো, তখন অন্যরকম ঝামেলা হতো। এ বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।

শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল হক বলেন, স্বামী স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হওয়াতে তাদের শিশুটি বাসায় গৃহকর্মীর কাছে থাকতো। এ সুযোগে গৃহকর্মী শিশুটিকে মারধর করতো। সিসিটিভি ফুটেজে মারধরের চিত্র পাওয়ার পর শুক্রবার পরিবার মামলা করে। সেদিনই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১৮ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

পিলার স্থাপন চলছে, দ্রুত বসবে কাঁটাতার
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়া তৈরির কাজ চলছে

উপরে